তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

‘আন্দোলন কীভাবে করবেন’ বিষয়ে একটি রেজাউল করিমীয় বিজ্ঞাপনী পরামর্শ

chumuandolon2

সোসাইটিতে ‘বিপ্লব’ বনাম ‘ধীর কার্যকর রাজনৈতিক পরিবর্তন’ এর মধ্যে বিজ্ঞাপনী সংস্থা কোনটা বাইছা নিতে বলবে ধরনের একটা লেখা লিখছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করা এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবী রেজাউল করিম।

তার লেখার নাম ‘ডিলিং উইথ সোসাইটি: কোলকাতা, মুম্বাই আর ঢাকা’। পইড়া ভাল লাগল না। লিংক এই নোটের নিচে দেওয়া আছে।

২.
রেজাউল তার লেখায় বলছেন:

ইয়ং বেঙ্গলের এই ১৫০/২০০ বছর পরেও কোলকাতা সেই ক্লাসিক মডেলই অ্যাপ্লাই করতাছে দেখা যায়। সেইটা ক্লিয়ার হইলো চুমাচুমির আন্দোলনে।
তবে এই মডেল নিয়া কনসার্নড হবার আরো বড়ো কারণ আছে; ইয়ং বেঙ্গল বা এখনকার কোলকাতার চুমাপিপল–কোনটাই স্টেটের লগে কাইজ্জায় যায় না। অথচ দুইটার বেলাতেই স্টেটের লগে কাইজ্জা করার বিরাট কারণ ছিলো।

এইটা রেজাউল করিমের বিপ্লবীদের কাজে লাগানো মডেল। এই মডেলে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার আন্দোলন করতে গেলে আগে ‘মেনোপেজের পরে যে রেপ সে রেপ রেপ না’ সে বিষয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন কইরা নিতে হবে। নাইলে এই নিয়া কনসার্নড হইতে হবে। কারা কনসার্নড হবেন তা অবশ্য আমি বুঝতে পারি নাই।

এই মডেলে করিম ধারণা করতেছেন চুমু আন্দোলনে শামিল বিপ্লবীদের সকলেরই ‘মেনোপজের পরে রেপ যে রেপ না’ সে বিষয়ে সরকারের রায়ের সঙ্গে বিরোধীতা থাকা আবশ্যক। মানে ‘মেনোপেজের পরে যে রেপ সে রেপ রেপ না’ সংক্রান্ত সরকার পক্ষ সমর্থনকারী কেউ থাকতে পারে না চুমু অ্যাকটিভিস্টদের মধ্যে এই জাতীয় ভ্রান্তি তার মডেলে রাখতেছেন রেজাউল।

সে দিক থিকা দেখতে গেলে রেজাউল চুমু আন্দোলনকে তো পজেটিভ ভাবেই দেখতেছেন। এর ভুলের জায়গা হইল আগে ‘মেনোপেজের পরে রেপ যে রেপ না’ রায়ের বিরুদ্ধে কাইজ্জা বা আন্দোলন কইরা না নেওয়া।

৩.
সমাজের কট্টর পন্থা যেমন বাস্তবতা তেমনি বিপ্লবী পন্থাও।

এবং সোসাইটির প্রতি রেসপেক্ট দেখাইয়া কৌশলে সব সাধন করতে হবে–এইটা বিজ্ঞাপনী মডেল।

রেজাউলের লেখায় সোসাইটি বলতে বৃহৎ অংশকেই সোসাইটি ধরা হইছে। কমের অংশকে ধরা হয় নাই।

বিপ্লব কখনোই এই রকম ভাবে ঘটে না। কাজ হওয়াটাই বড় কথা না, কীভাবে হইলেরও মর্তবা আছে বিপ্লবে। তারে বলে বিপ্লবী পন্থা।

প্রকাশ্যে চুমা খাইতে চাওয়াটাই কোলকাতার খোলা চুমু আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নয় (হইলেও সমস্যা নাই), বরং বিজেপির বা সোসাইটির বৃহৎ অংশের মূল্যবোধের প্রতি আঘাতই এর মূল লক্ষ্য। এই দিয়া সমাজের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশই তাদের করার কথা। তারা সেই অশ্রদ্ধা যারপরনাই প্রকাশ করতে পারছেন।

এখন যারা সোসাইটির প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করতে চায় তারা কেন শ্রদ্ধা দেখায় না তেমন একটা লেখাই লিখছেন রেজাউল করিম।

এবং মানস চৌধুরীর মত গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবী (এবং শিক্ষক) এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষক তাতে সাপোর্টও জানাইছেন। এই শিক্ষকদের প্রতি যেসব শিক্ষার্থীদের বিনাপ্রশ্ন শ্রদ্ধা আছে তারা যাতে অস্বস্তির মুখে পড়েন সে কারণেই আমি এইখানে তাদের প্রসঙ্গ টানলাম। তাদের প্রতি নবীন ও প্রবীণ ছাত্রছাত্রীদের ধীর চলমান শ্রদ্ধা যাতে খানিক টলে যায় সেইটাতেই আমার আগ্রহ।

নৃবিজ্ঞান পড়া লোকমাত্রই কি সমাজ বিচারের সাসটেইনেবল পদ্ধতি অনুসন্ধান করে কিনা, বা বিপ্লবের বিরোধী কিনা ভাবা যাইতে পারে।

আসেন ভাবি।

হিন্দি ‘শোলে’ ছবির উল্লেখ করছেন রেজাউল করিম। তার কথায় আমি দোনোমোনোর মধ্যে পড়ছি এই ভাইবা যে এই ছবির আগে হয়ত বোম্বে সিনেমা হলগুলির আশেপাশের জনপদে বিধবা বিবাহের প্রচলন ছিল না। আপনারা জানাইয়েন।

___

‘ডিলিং উইথ সোসাইটি: কোলকাতা, মুম্বাই আর ঢাকা’ লেখাটির লিংক: http://bit.ly/1tB2Gze

১২/১১/২০১৪

Leave a Reply