তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ও ভাই পশ্চিমবাংলা!

বাংলাদেশ ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় বড় শক্তি ইন্ডিয়াকে কমন শত্রুর বিরুদ্ধে ফাইটে যুক্ত করতে পারছে এইটা তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শী রাজনীতির অংশ।

বাংলাদেশের ব্যাটল ফিল্ডে পশ্চিমবাংলার বাঙালী সৈনিকদের অংশগ্রহণ বইলা আলাদা কিছু নাই। ওইটা ইন্ডিয়ার ঘটনা।

চোখ মুঁদে ইন্ডিয়া কি পশ্চিমবাংলাকে দেখতে পাচ্ছে?
চোখ মুঁদে ইন্ডিয়া কি পশ্চিমবাংলাকে দেখতে পাচ্ছে?

যেই ইন্ডিয়ার কাছে পশ্চিমবাংলা এখন তার নানান অভাব-অভিযোগের দাবি-দাওয়া পেশ করতে পারে। বাংলাদেশ ছোটখাটো চুক্তির বিনিময়ে পশ্চিমবাংলার এইসব দাবিদাওয়ার ব্যাপারে ইন্ডিয়ার কাছে তদবিরও কইরা দিতে পারে চাইলে।

অনেক পশ্চিমবাঙালী সেন্টিমেন্টাল হইয়া বইলা ওঠে, বাংলাদেশের যুদ্ধে পশ্চিমবাংলা অনেক হেল্প করছে। আর ইন্ডিয়ানরা বলে ইন্ডিয়া অনেক হেল্প করছে। আবেগ থিকা এই রকম বলতেই পারে কেউ। পশ্চিমবাঙালী এবং ইন্ডিয়ানদের এই আবেগরে মূল্য দিয়া চুপচাপ থাকাই ভদ্রতা এই ক্ষেত্রে।

কিন্তু রণকৌশলগত বাস্তবতা হইল, যুদ্ধে হেল্প কেউ এমনে এমনে করে না। তার মধ্যে স্বার্থ তৈরি করতে পারলে করে।

বাংলাদেশ সেই সময়ে যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মধ্যে ছিল, ইন্ডিয়ার সঙ্গে সেইভাবেই বাংলাদেশকে যাইতে হবে। বৃহৎ শক্তিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।

পশ্চিমবাংলা আর ইন্ডিয়া এক নহে। কোনো খোকাবাবুর জন্যেই তাহা নহে। পশ্চিমবাংলা নয়, ইন্ডিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বে আগাইতে হবে বাংলাদেশকে। সম্ভবত তাই তিনি আগাইতেছেন, ও ভাই পশ্চিমবাংলা!

৩০/১২/২০১৪

Leave a Reply