তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

খারাপ লোকদের ভাগাইয়া ভাল তসলিমারে যারা দেশে আনতে চান

taslima67

অনেকে দেখলাম খারাপ লোকদের দেশ থিকা বাইর কইরা দিয়া তসলিমা নাসরিনরে দেশে ফিরত নিয়া আসার ওকালতি করতেছেন। এইটাই সূত্র — মন্দদের ভাগাও! এই সূত্রেই আগের সরকারগুলি তসলিমারে দেশে ঢুকতে দেয় নাই। কেউ না কেউ কারো না কারো কাছে মন্দ থাকেই।

যে কোনো মন্দ পারসন বা প্রবলেমেটিক লোকরে পালন করার নিমিত্তে দেশে জেলখানা আছে। তবে জেলখানা সবার জন্যে নিরাপদ না। বিশেষত ধর্ম বিষয়ে যারা বিজ্ঞান বা যুক্তির ফাইটে আছেন তাদের জন্যে জেলখানা বিপদের জায়গা।

এমনিতে গণতান্ত্রিক সরকারগুলি দেশের বাইরে তখনই কাউরে পাঠায় যখন তারে ভিত্তি কইরা গণ আন্দোলন গইড়া ওঠে বা কেউ যখন নিজ বাসাবাড়ি, পাড়া-মহল্লা বা জেলখানাতেও আর নিরাপদ থাকেন না। বা কাউরে কেন্দ্র কইরা যখন বিরোধী দলগুলা শক্তিশালী হইয়া উঠতে চায়।

তসলিমার ধর্মীয় লেখালেখিরে কাউন্টার কইরা এই দেশে প্যাসিভ ধর্মভিত্তিক শক্তিগুলা রাজনৈতিক হইতে শুরু করছিল। যতদূর মনে পড়ে প্রথমে সিলেটের মাওলানারা পরে দেশব্যাপী ধর্মপ্রাণরা বেশ তপ্ত হইয়া উঠতেছিলেন সেই সময়টায় — ১৯৯৩ বা ৯৪ সালের দিকে। সে ধর্মীয় উত্থান সামাল দিতে পারবে এমন অবস্থা তখন ছিল না প্রশাসনের। সহজ পন্থায় তসলিমারে বাইর কইরা দিয়া নিশ্চিন্ত হইছিল তখনকার সরকার।

এখন যে তসলিমারে দেশে ফিরাইয়া আনতে চাইতেছেন আমাদের দেশের মুক্তমনা ও গণতন্ত্রমনা বুদ্ধিজীবীরা, আমি জাস্ট সেই ফিরাইয়া আনার সুরটা খেয়াল করতে চাইলাম। হোয়াই এতদিন বাদে এই নষ্টালজিয়া?

আমি মনে করি এই যে ‘দেশের মেয়ে দেশে আসুক’ সুরটা বাজতেছে এই সুরের পিছনে হেফাজতরে গত বছর যে এয়ার টাইট দেওয়া হইছিল সেই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটার খুব প্রত্যক্ষ প্রভাব আছে।

তসলিমারে ফিরাইয়া আনতে চাওয়ার সঙ্গে হেফাজত দমনে সরকারের অসীম শক্তির প্রতি প্রশ্নহীন বিশ্বাস কার্যকর আছে বুদ্ধিজীবীদের মনে।

২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামরে সাইজ করার পরবর্তীতে মোল্লাদের দৌড়রে রাজনীতির ময়দান থিকা মসজিদে ফেরত পাঠাইতে পারছে সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীরা, থ্রু গভমেন্ট। মুক্ত বুদ্ধিজীবীরা সেই ফাইনাল হিসাব পাইয়া ফেলছেন যে এইবার আর তসলিমার বিরুদ্ধে মোল্লারা কিছু করতে পারবে না। করলে মোল্লাদের খতম কইরা দেওয়ার জন্যে সেক্যুলারদের পক্ষের ফ্যাসিস্ট অ্যাকশন জারি করা হবে। ফলে চাইলে সরকার তসলিমারে ফেরত আনতে পারে।

২.
আমি দেশ নামক পরমে বিশ্বাস করি না। রাজনীতিগতভাবে কে শক্তিমান, সে কারে দেশে রাখবে কারে চান্দে পাঠায় দিবে সেই সূত্ররে সমীহ কইরা চলি। ফলে তসলিমার দেশে আসা নিয়া আকুল বুদ্ধিজীবীদের একই আকুলতা কেন দাউদ হায়দারে নাই তা জিজ্ঞেস করব না। বরং তসলিমা দেশে আসুক এইটাই চাইব।

কিন্তু বুদ্ধিজীবীরা যতটা নিশ্চিত সরকার কি ততটা নিশ্চিত ‘না-কংগ্রেস’ এই ভারতীয় আমলে জেলায় জেলায় ধর্মীয় উত্থানগুলিরে সরকার ২০১৩ সালের মে মাসের মতই অন্ধকারে অন্ধকারে ট্যাকেল কইরা ফেলতে পারবে?

৩/৮/২০১৪

Flag Counter

Facebook Comments

Leave a Reply