তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

গুরুচণ্ডালী বইলা কিছু নাই, আছে বাংলা ভাষা

প্রমিত বাংলা বাংলার একটা শক্তিশালী আধিপত্যবাদী উপভাষা।

ভাষা থুইয়া উপভাষা শিখাইতে তৎপর ভালোত্বের ধ্বজাধারী প্রথম আলো ও আমাদের পয়সা খাওয়া আকামা প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।

প্রমিত ভাষার মধ্য দিয়া ব্রিটিশ ইংরাজির সমান্তরাল একটা নকল বাংলা বাংলাদেশ ও মেইনলি ইন্ডিয়ার পশ্চিমবাংলায় প্রচলিত আছেন। এই প্রমিত সাহেবের আসল কাম বাংলায় ইংরাজি বলা। ব্রিটিশ গোলামির ভাবধারা ও নাইসনেস শিখানো।

বাংলা ভাষারে এর ভাব-চক্করসহ ফিরা পাইতে হইলে প্রমিতের গুষ্টি কিলাইতে হবে। প্রমিতের আগের বাংলার লগে যোগ লাগাইতে হবে আমাদের। কবিতা ও কাহিনী দুই প্রকারেই তা দরকার। এই কাজ করতে গিয়া প্রমিতের কুঅভ্যাসের ভিতর দিয়াই যাইতে হবে। প্রমিতরে ব্যবহার কইরা আমরা শক্তিনাশ করব প্রমিতের। তবে সাবধান, প্রমিত ভাষা সাহেব আপনার মাথায় হাত বুলাইয়া ভাষার আঞ্চলিকতারে মাইনা নেওয়ার উদারতা দেখাইবেন আপনারে।

এমনকি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানও বানাইছেন প্রমিত পণ্ডিতরা। কিন্তু জানবেন, আঞ্চলিক বইলা কোনো ভাষা হয় না। ভাষার উপত্ব অঞ্চল ভেদে হয় না। বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততার বাইরে আরোপিত ভাষাগুলিই উপভাষা।

প্রমিত বাংলা উপভাষার মূল শক্তি ব্রিটিশ ইংরাজির প্রাতিষ্ঠানিকতা বা গাম্ভীর্য। এই গাম্ভীর্যকে উল্টাইয়া দেওয়াটাই হইতেছে আসল কাম। প্রমিত খেদানোর একটা সহজ উপায় প্রমিত ভাষার মধ্যে ইতরামি বা লঘুতার সঞ্চার। তা দিয়া আস্তে আস্তে আপনি এই ভাষারে চুটকির বা ব্যঙ্গের বা গালাগালির বিকল্পে পরিণত করতে পারবেন। আপনার বাংলা ভাষা তো বাংলাই আছে। দরকার বিদেশী ভাষার তথা প্রমিতের মাতব্বরি নিকাশ করা।

এই ব্যাপারে আমাদের অগ্রগতি অসামান্য। প্রমিত বেচারা বেচইন হইয়া উঠছেন। বাংলা একাডেমি দুর্গের বাইরে প্রমিতের অবস্থা বড় সঙ্গীন।

যারা বলেন ‘প্রমিতও আছে বাংলাও (বাংলারে তারা বলেন গুরুচণ্ডালী!) আছে অসুবিধা কী’ তারা আসলে দুই নাম্বারি করেন। তারা বাংলার উপরে প্রমিতের মাতব্বরির ওকালতি করেন।

কিছু আছেন সাধু বাংলা উপভাষার ব্যায়াম করেন। এনারাও ইংরাজির গোলাম। এদের ব্যাপারে ফাইট দেওয়ার প্রস্তুতি নেন ইয়াং সমাজ। এই দেশের প্রায় সব লেখক, কবি ও বুদ্ধিজীবী ‘কলকাতা’ খাইয়া ভদ্রলোক সাজছেন, আপনাদের কইলকেতার দরকার নাই। আছে কি?

১৬/৯/২০১৫

Leave a Reply