তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ছফার সৎ ভাবমূর্তি যেভাবে আমাদের বুদ্ধিজীবিতার জগৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে

সততা বুদ্ধিজীবিতার জন্যে আদৌ অপরিহার্য বিষয় নয়।

আমি মনে করি, আহমদ ছফারে সঙ্গে লইয়া এই কালের বিশেষত নবীন বুদ্ধিজীবীরা সততার যে ভাবমূর্তি দাঁড় করাইতে চাইতেছেন, বুদ্ধিজীবিতার দিক থিকা তা সমূহ ক্ষতির কারণ হইয়া উঠবে।

আমি আপনাদেরকে এই পশ্চাৎগমন তথা ধর্মরাজত্ব তৈরির দিক থিকা এখনই সরাইয়া আনতে চাই।

মনে রাখবেন, সততা ধর্মপ্রাণদের অনুশীলন। এবং সততা আপনাকে অন্যদের থেকে অভিজাতই করে, সব সময়।

ছফার নির্লোভ সৎ ব্যক্তিত্বরে অনুকরণীয় হিসাবে নবীনদের জন্যে তুইলা ধরার মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের জন্যে যে মডেল সরবরাহ করা হইতেছে তার ফলাফল তর্ক ও বিদ্যা চর্চার জগতে খুব খারাপ হইছে ও হবে।

সততাই যদি বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা ও কাজের মূল নিয়ামক হইয়া দাঁড়ায় তবে তারা চিন্তার দৌড়ে বেশিদূর আগাইতে পারবেন না। নৈতিকতা নিরপেক্ষ ভাবে চিন্তা করতে তারা শিখবেন না।

এই মডেলের—মানে সততা ও সাধারণ জীবনের মডেলের—সমাজ মানে মিডল ক্লাসের শুভবোধের নিগড়ে আটকা পড়া গ্রাম সমাজ। অর্থনীতি ও নতুন চিন্তারে স্লথগতি কইরা দেয় এই সমাজ।

সততা প্রায় অসততার মতই ছোট একটা বৈশিষ্ট্য, এইটারে দিয়া বুদ্ধিজীবীদের যখন বিচার করা হয় তখন তাদের সত্য-মিথ্যা নিরপেক্ষ বিপ্লবী চিন্তা ও র‍্যাডিক্যাল ভূমিকারে রুদ্ধ করা হয়।

এর থিকা বাইর হওন দরকার।

বুদ্ধিজীবীতা বিচারের মাপকাঠি থিকা সততা ও সিম্পলিসিটির নিরীহ দণ্ডগুলারে আলগোছে সরাইয়া ফেলার টাইম আসছে।

যেহেতু, আমি বুদ্ধিজীবীদের এই ফিল্ডে এখন আসছি। ক্ষেত্রটি জটিল করব বলে।

২/১০/২০১৬

Leave a Reply