তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ছ স নয়, ছ ছ-ই

“সব ঠিক আছে মিস্টার জলিল। কিন্তু আপনার ভাষা ঠিক করতে হবে, নাইলে ওনারা নিবেন না আপনারে। ওনাদের ভাষা এতদিনে ঠিক হইয়া গেছে!

শুরু করেন। আসেন, ছ-রে স বলেন।”

– ইতি দন্তস্য

 

এম এ জলিল অনন্ত ও মালয়েশিয়ার নায়িকা পারভিন ‘দি স্পিড; ছবিতে।
এম এ জলিল অনন্ত ও মালয়েশিয়ার নায়িকা পারভিন ‘দি স্পিড’ ছবিতে।

 

জলিল সাহেবের সিনেমা ঢাকাই মধ্যবিত্ত যারা বাংলা সিনেমারে অবজ্ঞা কইরা আসছে তাদের দেখার যোগ্য একটা সিনেমার ধরন উপহার দিতে শুরু করছে বইলা সংবাদ মাধ্যমের বরাতে বুঝতে পারতেছি। হয়তো ভুল বুঝছি।

ছোটলোক ঘৃণাকারী মধ্যবিত্তরা ছোটলোকি বিনোদন থিকা রক্ষাকারী জলিলরে কেউ কেউ নিতেছে কেউ কেউ নেয় না। জলিল শুদ্ধতাবাদী মিডল ক্লাসের চাহিদা পূরণ করতে পারলেও ভাষাগত ভাবে ছোটলোকদের চিহ্ন বহন করতেছে। মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা বার্তা দিতেছে ভাষার পরিশীলন হইলে জলিলরে তারা বরণ করবে। সো এই সাংস্কৃতিক দূরত্বখানি পরিমার্জন ছাড়া জলিলের কিছু বাকি নাই। সে ভাষা বা কণ্ঠ অনুশীলনের মাধ্যমে রুচিশীল মধ্যবিত্তের মনের বা বাসার দরজায় আসন লাভ করতে পারে।

আমার আলোচনার উদ্দিষ্ট বুয়েট শিক্ষার্থীদের জলিলাভিমান। যে-শিক্ষার্থীরা জলিলের কেন শুদ্ধ ভাষা নাই তা নিয়া ব্যঙ্গের ছদ্মে আহাজারি করতেছে তাদের চাহিদা নিয়া।

ভাষার শুদ্ধতা যার আছে সে ইতোমধ্যে উচ্চশ্রেণীর, অর্থনৈতিক উচ্চশ্রেণী হওয়ার তার দরকার নাই। যেহেতু ভাষাশুদ্ধিই ক্লাস পেরোনোর সহজ পন্থা তাই দেখবেন গরিব ছোটলোকরাও কেমন শুদ্ধ ভাষায় যাপন করতে লাগছে! তারা লেখে দেখবেন, আছে-রে আসে, দিছে-রে দিসে, খাইছে-রে খাইসে।

স এখন ভাষাগত উচ্চশ্রেণী হইতে চাওয়া নবিশদের চাবিহরফ বা কী-লেটার হইয়া উঠছে! তারা ছ-এর বদলে স চালাইয়া দেয়।

তবে এর শুরু নিশ্চয়ই অনেক আগে। যখন থিকা আমরা এছলাম-এর বদলে ইসলাম লিখতে শুরু করছিলাম। মোছলেম-এর বদলে মুসলিম। হিন্দু কালচারাল উচ্চশ্রেণীর অবজ্ঞা থিকা নিশ্চয়ই স তখন বাঁচাইছিল। কিন্তু আছে-র ছ-এর দোষ আমি বুইঝা উঠতে পারি নাই। ছ দিয়া আছে তো জমিদার হিন্দুরাও লিখতো। এখনো তাদের বংশধরেরা লেখে।

৪ সেপ্টেম্বর ২০১২

 

Leave a Reply