তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

দুর্বল শাড়ি ও চুড়ির অদুর্বল কাজ

“নববর্ষের দিনে নারীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে গতকাল রোববার দুপুরে পুলিশের জন্য চুড়ি, শাড়ি ও ললিপপ নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।”

‘নববর্ষে নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদ: পুলিশের জন্য শাড়ি–চুড়ি নিয়ে থানা ঘেরাও’
প্রথম আলো, ২০ এপ্রিল ২০১৫

১.

শাড়ি-চুড়ি-ললিপপ সাধারণভাবে দুর্বলতারই প্রতীক। অন্তত নববর্ষে নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদে পুলিশের জন্য শাড়ি-চুড়ি নিয়া থানা ঘেরাওয়ের কালে তা দুর্বলতারই প্রতীক। পুলিশকে অপমান করা বা অবলা শাড়ি-চুড়িঅলা নারীর পর্যায়ে নামাইয়া আনাই এই প্রতীক ধইরা রাখা সামগ্রী সম্প্রদানের লক্ষ্য ছিল মনে হয়।

সমাজে যা হওয়া দরকার তা এখনই বর্তমান আছে, কিচ্ছু করতে হবে না এমন যারা মনে করেন তারা হয়তো বলবেন সমাজে দুর্বল বলতে কেউ নাই। সকলেই সবল। কিন্তু তা তো আর না। সমাজে দুর্বল আছে। শাড়ি-চুড়ি পরা নারী দুর্বল এই ধারণাও বিস্তৃত আছে সমাজে। এবং এই রকম দুর্বল হইয়া থাকাটা নারীর উপযুক্ত কর্ম নিশ্চয়ই না।

কিন্তু সেই অনুপযুক্ত কর্ম একটিভিস্টদের মুখের কথায় উধাও হইয়া যায় নাই, যাবে না। গড়ে নারী এই দেশে দুর্বলই আছে। সে কারণেই দুর্বলের উপমা হিসাবে নারীর পরিধেয় শাড়ি-চুড়ি এখনও কাজ চালানোর পর্যায়ে আছে। নারীর শাড়ি-চুড়িতে যদি দুর্বলতা প্রকাশিত নাই হবে তবে এইসব শাড়ি-চুড়ির প্রতীকও দুর্বলতা প্রতিপাদন করতে পারতো না।

বর্ষবরণ উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা l - প্রথম আলো
বর্ষবরণ উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা – প্রথম আলো

২.
পুলিশের কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের নির্ভরতার যে জায়গা ছিল তা হারায় গেছে। এখন পুলিশদেরকে শাড়ি-চুড়ি-ললিপপ পরাইয়া আর খাওয়াইয়া যেই একটিভিস্টরা তা ফেরত আনতে চান তারা বেটার একটিভিস্ট দ্যান যারা মনে করেন শাড়ি-চুড়ি-ললিপপ সামগ্রী লইয়া থানা ঘেরাও মন্দ হইছে। নারীরে তো ছোট করা হইছে!

যে গোষ্ঠীরে বড় করতে গেলে সর্বদাই তারে বড় কইরা দেখাইতে হয় সে গোষ্ঠী আদতে বড় হয় নাই। তার বড় হওয়ার দরকার আছে অবশ্যই।

এই থানা সকাশে শাড়ি-চুড়ি প্রদর্শনের রাজনীতিতে বরং নারী (এবং পুরুষ) নিজেদের দুর্বল প্রতীকরে নিজেদের সবলতা আদায়ের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারলো।

পুরুষের শার্ট, ঘড়ি, সিগারেট সমাজে দুর্বলতার প্রতীক নয়, বরং সবলতারই। পুলিশের দুর্বলতার কালে এইসব প্রতীক তাদেরকে বরাদ্দ করা ঠিক হইত কি?

অপারগ পুলিশকে ছোট করতে শ্লেষ করতে আপনি যাই উপহার দিতে যান না কেন ভাইবা চিন্তাই তা দেওয়া উচিত। কোন দুর্বলের কোন জিনিস আপনি তাদেরকে উপহার দিতে পারেন?

বেটা নামধারী পুলিশকে (চাইলে মেয়ে পুলিশকেও বেটা ধরতে পারেন) মেয়ে হিসাবে বিবেচনা করার চিন্তা র‍্যাডিক্যাল চিন্তাই। নারী অবমাননার ভুল তা নয়।

যিনি দুর্বল নন তাকে কোনো প্রতীকই দুর্বল করতে পারে না।

২১/৪/২০১৫

Facebook Comments

Leave a Reply