তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

নাগরিকদের অসম্মান করাটা মিডিয়ার কাম না!

 

যেমন দেশের অতি সম্মানিত নাগরিক যথা আনিসুজ্জামান, কামাল হোসেন ও মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রমুখের ক্ষেত্রে প্রথম আলো পত্রিকাটি সম্মানসূচক তার (তাঁর) ব্যবহার করে তেমনি চোর, ছিনতাইকারী ও ধর্ষকের বেলায়ও প্রথম আলো সম্মানসূচক তার (তাঁর) ব্যবহার করে থাকে। তাঁর-এর এই সমূহ ব্যবহার নিয়া বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিকদের কারও কারও মধ্যে (যারা চোর, ছিনতাইকারী বা ধর্ষক নন) প্রশ্ন বা দ্বিধা জাগরূক আছেন। আমি সেই দ্বিধা নিবারণ করি।

১.
আমি মনে করি নাগরিকদের সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে প্রথম আলো  সঠিক অবস্থানে আছে। কোনো পত্রিকাই কোনো নাগরিককে অসম্মানিত করতে পারে না। সে এখতিয়ার পত্রিকাদের নাই। বিচারকদেরও না। কোনো নাগরিক যে সাজাই পান বা না পান, তার যে পেশা বা আকাম-কুকামই থাকুক না কেন, সমাজের চোখে তার অবস্থান যাই হউক না কেন কোনো মিডিয়া, এমনকি কোনো বিচারকও–কোনো সাজাপ্রাপ্ত নাগরিককেও–অসম্মানিত করতে পারেন না।

কারও অপরাধের শাস্তি তাকে অসম্মান করা নয়।

২.
বিভিন্ন ব্যক্তির মানহানি ও চরিত্রহননের কালেও মিডিয়া সম্বোধনের বেলায় সম্মান রাখতে বাধ্য। অনেক পত্রিকারই নাগরিক সম্বোধন অসম্মানমূলক, কিন্তু সেইটা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত কার্যকলাপ। প্রথম আলো যে তা করতে চায় না তাই প্রথম আলোকে প্রশংসা করি। ছিনতাইকারী বা ধর্ষকদের যারা অসম্মান করতে চান করুন, রাষ্ট্র তাদের সম্বোধনের কালে পুলিশদের মত অনধিকার তুই তোকারি করবে না। পত্রিকাও করবে না। বিচার ব্যবস্থাও না। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই নাগরিককে অসম্মান করতে পারে না। নাগরিকরা অন্য নাগরিকদের তো অসম্মান করেই। ধর্ষক ছিনতাইকারীদেরই কেবল নয়, প্রায় সব রিকশাচালককেই (যারা ধর্ষণ বা ছিনতাই করেন নাই) সব ভদ্রলোকেরা তুইতোকারি করে! তাদের দেখাদেখি রিকশাঅলাদের তুই কইরা বলতে ধরবে পত্রিকাগুলি! তা হয় না।

৩.
অপরাধী প্রমাণিত হইলেও কাউকে অসম্মান করা যাবে না, যদি না শাস্তিই হয় ধরেন এই রকম–“দুই বৎসর ধরিয়া অপরাধীকে সামাজিক ভাবে অসম্মানিত করিতে হইবে…! তাহাকে আপনির স্থলে তুই বলিতে হইবে। পত্রিকাগুলিও এইরূপ বলিতে বাধ্য থাকিবে। না বলিলে ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পত্রিকার ‘আপনি’ সম্বোধনকে আদালত অবমাননা সাব্যস্ত করা হইবে…!”

 

Leave a Reply