তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

নারীবাদী নয় ওরা যৌনপুলিশ!

আমি যদি তসলিমার প্রেমে পড়তাম আধারাত নয় আধাযুগ তাঁর পেছনে ব্যয় করতে কুণ্ঠিত হতাম না। কিন্তু বুকের ভেতর ওই বোধটি আমার জাগে নি। যতবারই তসলিমাকে দেখেছি, আমার তাঁকে সুন্দর সুদৃশ্য একটি রেলওয়ে স্টেশনের ওয়েটিং রুমের মত মনে হয়েছে। যেখানে একসঙ্গে অনেক মানুষ অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু কোনো গহনতা, নির্জনতা কিছুই নেই।

আহমদ ছফা, ১৯৯৪

ছফা কেন তসলিমারে ‘ওয়েটিং রুম’ হিসাবে দেখেন তা নিয়া কিছু মন্তব্য দেখলাম। নারীবাদী-নারীবাদী পুরুষতান্ত্রিক আলোচনা!

পুরুষরে বা নারীরে কেউ যদি শারীরিক ভাবে দেখে তা কি দোষের নাকি?

কেউ কাউরে ‘ওয়েটিং রুম’ অভিধা দিলে তার পিছনে অভিধাদাতার যৌনবাসনা আছে কি না আছে সে আবিষ্কার অনধিকার চর্চা। অন্তত যতক্ষণ না সে ব্যক্তি সে বিষয়ে তার যৌনবাসনারে আপনার বাসনার সামনে খাড়া করতেছেন।

সমালোচনার মনধনবিহারিনি এই ধরন অন্যের মনের গভীরে কী আছে বা ছিল তা খুইড়া আনতে চায়!

তার চেয়েও বেশি যা তা হইল, এই রকম আলোচনা অন্যের যৌনবাসনায়ও হস্তক্ষেপ করে।

ধরা যাক ছফা এই ওয়েটিং রুম অভিধার মধ্য দিয়া তসলিমারে শারীরিক ভাবে চাইছিলেন, তো তা কি সমালোচনার বিষয়?

কাউকে ওয়েটিং রুম বলা যদি দোষের না হয় তা তিনি যৌনবাসনার কারণে বললেও দোষের না।

তসলিমা কখনো মনে মনে ছফার সঙ্গে শুইতে চাইছিলেন কিনা তা যেমন অনধিকার আলোচনা ছফা তসলিমার সঙ্গে শুইতে চাইছিলেন কিনা তাও একই রকম অনধিকার আলোচনাই।

নারীবাদীরূপী নারী ও পুরুষ আলোচকরা মূলত তসলিমার ব্যাপারে অন্যদের যৌনবাসনারে পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে রত আছেন।

তারা যৌনপুলিশ!

১২/৭/২০১৩

Facebook Comments

1 Comment

Add Yours →

Leave a Reply