তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

নাস্তিকের ধর্ম

ধর্ম কেবল স্রষ্টার ধারণা তৈরি করে না, মানুষ ধারণারও আবিষ্কর্তা ধর্ম। এখন দেখি অনেক নাস্তিক লোককে যারা ধর্ম মানেন না কিন্তু মানুষ মানেন।

আপনি যখন মানুষ ধারণার মধ্যে আবর্তিত আপনি ধর্মেও আছেন। মানুষ নিজের অস্তিত্বরে বিমূর্তায়িত করে ধর্ম দিয়া। নাইলে মানুষও জীব মাত্র—বা পশু বা পাখি বা কোনো উদ্ভিদ।

ধর্ম নাই, আল্লাহ নাই, মানুষ নাই—এই রকম বলার মধ্য দিয়া আপনি কেবল অস্বীকার করতে পারবেন, শিশু যেমন লাল রঙকে বলবে নীল, তাতে তার বলার আনন্দের সৃষ্টিশীলতা প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু আপনার জীবন ধর্মময়। এই ধর্ম সেই ধর্ম যাই হউক আপনি যেহেতু মানুষ ধারণায় ঘুরপাক খান নাস্তিকতা আপনার ঘোষণা মাত্র, ওই রকম তো কত পোশাকই আমরা পইরা থাকি।

যত মত তত পথ
যত মত তত পথ

আর যদি আপনার ধর্ম আছে, মানুষ বইলা কিছু পবিত্রতা আপনি আরোপ করতে শিখছেন—আপনার আল্লাও আছে। আপনি হুদাই নিজেরে নাস্তিক নাস্তিক করেন। আপনি যা বলেন আপনি কি তাই নাকি? আপনি যা না বলেন—তাও আপনি, হে নাস্তিক নামধারী আস্তিকগণ!

অবশ্য অনেক গাধারা বলবে, মানুষই মানুষ ধারণার আবিষ্কর্তা। বুঝলাম। না হয় রবীন্দ্রনাথের দিকে চাইয়া একবার মানলামও। তাইলে তার কথা অর্থাৎ কোনো একটা মানুষের কথা যখন অন্যেরা মাইনা নিলো বা আমি নিলাম তখন তা ধর্ম। আর যদি অনেক মানুষ সম্মিলিত ভাবে মানুষ ধারণার আবিষ্কারক হয় তো সেইটা জবরদস্তি। সারভাইবাল ইনস্টিংক্ট। সংস্কৃতিরে সত্য জ্ঞান করার কুসংস্কার।

মানুষ আছে ধরলে তার স্রষ্টারেও মানুষের মতো কইরাই আছে ধরতে হবে। মানে মানুষ যেই চৈতন্যগত বিমূর্ততা এবং বাস্তব তার স্রষ্টাও সেই রকমই বাস্তব ও বিমূর্ত।

আর নাইলে আপনার বলতে হবে মানুষ নাই। তা এক অর্থে যদি ঠিকও হয়—আপনি নাস্তিকও তাইলে সেই সেইভাবে নাই-ই!

২০/৭/২০১৪

Facebook Comments

3 Comments

Add Yours →

মানুষ সম্পর্কিত কোন ধারণা ধর্মের সৃষ্টি? যখন ধর্ম ছিলনা, তখন কি মানুষ সম্পর্কিত কোনও ধারণা মানব সভ্যতায় ছিল না? আপনি ধর্ম বলতে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মকে বুঝাচ্ছেন, ধর্ম স্রষ্টার ধারণা তৈরি করে, কিন্তু সব ধর্মের স্রষ্টার ধারণা কি এক? ইসলাম ধর্ম আর খ্রিস্টান ধর্মের স্রষ্টার ধারণায় কিছু মিল থাকলেও, অমিলও অনেক। হিন্দু ধর্মের কথা বলাই বাহুল্য। একসাথে কোনও ধর্মই স্রষ্টা সম্পর্কে একই ধারণা প্রকাশ করে না। শুধু ধর্মই যে স্রষ্টার ধারণা তৈরি করে তা নয়। একক কোনও ব্যক্তিও স্রষ্টার ধারণা তৈরি করতে পারে। সক্রেটিস ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনও ধর্মের সাথে যুক্ত ছিলেন না।
আস্তিক নাস্তিক হওয়ার মধ্যে মানুষ মানা না মানার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একান্তই ঈশ্বর সম্পর্কিত। যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ( প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অনুসারি হোন বা না হোন) তিনি আস্তিক এবং যিনি ঈশ্বর ধারণায় বিশ্বাস করেন না তিনি নাস্তিক। যেহেতু সব ধর্মে স্রষ্টার ধারণার পার্থক্য আছে, তাই সব আস্তিক যে একই ধারণায় বিশ্বাসী এইটা বলা যাবে না।
“কোনো একটা মানুষের কথা যখন অন্যেরা মাইনা নিলো বা আমি নিলাম তখন তা ধর্ম” – না এইটা ধর্ম না। সবাইকে ধর্মের সীমার মধ্যে আনার জন্য আপনি ধর্মের অযথা হাস্যকর একটা বিস্তার ঘটিয়েছেন। ধর্ম কারো কথা মানা বা না মানার সাথে সম্পর্কিত না। বিশেষ কোন মহাপুরুষের কথা বিশ্বাসকে ধর্ম বলা যেতে পারে। মুসলমানরা নবিজির কথা মানে না, বিশ্বাস করে। খ্রিষ্টানরা যিশুর কথা মানে না, বিশ্বাস করে। মানা বা না মানা নিজের বুদ্ধির স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত, বিশ্বাস তা নয়। ধরেন, একজন ব্যক্তি নাস্তিক ক্রিস্টোফার হিচেন্সের একটা যুক্তি মেনে নিল। তাহলে কি এই মেনে নেয়াটা ধর্ম? সবার কথা মেনে নেওয়াটাই যদি ধর্ম হয়, তাহলে ধর্মে বিশ্বাসী হতে তো, আপনার কথা অনুযায়ী, ঈশ্বর বাধ্যতামূলক না।
“মানুষ আছে ধরলে তার স্রষ্টারেও মানুষের মতো কইরাই আছে ধরতে হবে। মানে মানুষ যেই চৈতন্যগত বিমূর্ততা এবং বাস্তব তার স্রষ্টাও সেই রকমই বাস্তব ও বিমূর্ত।” স্রষ্টার সেই বাস্তবতা কীরূপ? এবং কোন ধর্মের স্রষ্টার কথা বলছেন? যেখানে পৃথিবীর সব ধর্মের মধ্যে নির্দিষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে, এবং তার জন্য কোন ধর্মই অন্য ধর্মের সাথে সুসম্পর্ক রাখে না, তার মধ্যে ধর্মের এইসব হাস্যকর ব্যাখ্যা দিয়ে পৃথিবীর সব মানুষকে কোন ধর্মের ধারণায় আনতে চাচ্ছেন
?

স্কেপটিক‍্যাল যারা , তারা আস্তিক নাকি নাস্তিক?

Leave a Reply