তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

পতিতাদের চরিত্র লইয়া হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে ভিন্নমত করা যাউক!

(২৮/৪/১৯৪৭ - ১১/৮/২০০৪)
(২৮/৪/১৯৪৭ – ১১/৮/২০০৪)

অনেকে আমাদের সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের পতিতাদের সাথে তুলনা করেন। আমি এটাকে খুবই আপত্তিকর ও পতিতাদের জন্য অপমানজনক মনে করি। পতিতারা কোনো সুবিধা নেয়ার জন্য দেহদান করেন না, বেঁচে থাকার জন্য দেহদান করেন; আর আমাদের রাজনীতিবিদেরা সর্বস্ব দান করে সুবিধার জন্য। তারা চরিত্রহীন, পতিতারা চরিত্রহীন নয়!!
— হুমায়ুন আজাদ

হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে ভিন্নমত রাখা যাক।

সুবিধা নেওয়ার জন্যে পতিতাদের দেহদান করতে হয় অনেক সময়। পুলিশ, দালাল ও প্রভাবশালীদের কাছে। তবে সেও বেঁচে থাকারই অংশ। রাজনীতিবিদরা দেহদান করেন না তেমন একটা, বরং বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ দেহদান করছেন–যেমন ড. আহমদ শরীফ। তবে এই দেহদানকে পতিতাদের দেহ ভাড়া দেওয়াকে যে অর্থে দান বলা হয় তেমন ভাবে দেখা যাবে না। তাঁর দেহ আর ফেরত পাওয়া যায় নাই। পতিতারা কিছু সময়ের জন্যে নিজের দেহ ফিরে পেয়ে থাকেন।

পতিতারা অবশ্যই চরিত্রহীন। চরিত্রের যে মাপকাঠি তা দিয়াই চরিত্র বিচার করতে হবে। যে নারী বা পুরুষ একাধিক লোকের সঙ্গে দেহসঙ্গ করেন তাকে চরিত্রহীন বলবার রীতি আছে। সেটি ভদ্রবাড়ির মেয়েছেলেরা করলে চরিত্রহীনতা যেহেতু পতিতাদেরও একই ব্যাপার। তবে পতিতার চরিত্র বিচারের দরকার পড়ে না। কারণ পতিতাদেরকে লোকে সমাজের বাইরে অস্পৃশ্য কইরাই রাখছে।

হুমায়ুন আজাদ সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের খারাপ দেখানোর জন্যে এমন বলছেন মনে করি। ব্যাপার হইল রাজনীতিক বললে আর সুবিধাবাদী বলার প্রয়োজন পড়ে না। সুবিধা আদায় করার নামই রাজনীতি। সুবিধা আদায় করা, লবিং করা রাজনীতিক কাজ হিসাবে খারাপ না। রাজনীতিকের কাজই হইল নিজের ও দলীয় লোকদের সুবিধা আদায় করা। দুর্নীতির হিসাবটা ভিন্ন। সুবিধায় দোষ নাই। আর এত চরিত্র দিয়া কী হইব!

৩.৩.২০১৩

 

3 Comments

Add Yours →

যেমনে দুই দেহদান রে মিলাইছিলেন টাশকি খাইছিলাম প্রথমে। 😀

আপনে বলছেন “আর এত চরিত্র দিয়া কী হইব!” তাইলে তো ওই কথাই দাঁড়ায় রাজনীতিক মানেই চরিত্রহীন। 🙂

মানে রাজনীতি করতে চরিত্রের প্রয়োজন নাই।

Leave a Reply