তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ফুলের লগে থাকুম নি

১.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা কি শুধুই বাংলা নয়? উইকিপিডিয়া বলতেছেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় ভাষা ও সরকারি ভাষা হল বাংলা।”

সম্ভবত এইটারে এইভাবে বলা যায়—”বেঙ্গলি ইজ দ্য অনলি স্টেট ল্যাংগুয়েজ অফ বাংলাদেশ।” ভুল হইলে শোধরাইয়া দিয়েন।

এখন রাষ্ট্রভাষার কাজ কী—এইটারে সর্বস্তরে চালু করতে হবে? জিন্নাও কি উর্দুরে নিয়া তাই করতে চান নাই?

সর্বস্তরে বাংলা চালু হওয়ার মত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি আছে কি? যদি তা না থাকে তবে এই গৎবাঁধা ‘সর্বস্তরে বাংলা’ গীতির হাত থিকা সর্বস্তরকে মুক্তি দেন।

২.
একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলন ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুর পাশাপাশি বাংলার স্বীকৃতি আদায়।

“বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় ১৯৫৬ সালের ২৯ শে ফেব্রুয়ারি। সংবিধানের ২১৪ অধ্যায়ে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে লেখা হয়: The state language of Pakistan shall be Urdu and Bengali.” (পাঠ: ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়; ২০০৯; ব্রারা – kutarkerdokan.com.)

এখন জিন্না ও পাকিস্তানপন্থীদের সাধের পূর্ব পাকিস্তান যেহেতু আর নাই তাই আমাদের জন্যে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নটাও ভিন্ন ধরনের। আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি ও রাষ্ট্রভাষা অবস্থাটারে আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার আলোকে দেখব।

বাংলা ভাষারে রাষ্ট্র তথা শাসকশ্রেণীর ও প্রমিত ভাষার গোলামি করতে আমরা কতটা দিব সেইটা ভাবার সময় আসছে। সাথে দেশে প্রচলিত আর সব ভাষার সঙ্গে রাষ্ট্রভাষার সম্পর্ক কী হবে সে জিনিস পুনর্নির্ধারণ করারও ব্যাপার আছে।

৩.
বাংলার পাশাপাশি আর কোন কোন ভাষারে এখন স্টেট ল্যাংগুয়েজের মর্যাদা দিতে রাজি হইবেন আপনারা যারা বাংলা-অন্তপ্রাণ তা নিয়া আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। হয়তো প্রশ্নটা শোনার মত যথেষ্ট অ-জিন্না এখন আর আপনারা নাইও।

প্রশ্নটা সহজ: “এই দেশে রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে বাংলার সঙ্গে সঙ্গে আরও কোনো ভাষা আছে কি?”

আপনাদের তরফে আমি উত্তর দেই: “নাই। ”

তাই একুশের চেতনা বলতে আপনি ৫২-তে বইসা থাকলে হবে না। ২০১৬-তে নামেন দয়া কইরা। ভাষা ও রাষ্ট্ররে বুঝতে শিখেন। যেইটা দরকার সেইটা করেন।

স্মৃতিগ্রস্ত জনসাধারণের ফুলদানরেই নিজের জীবনের মোক্ষ কইরা তুইলেন না। বাংলা ভাষাটি তৎকালীন ঊর্দুর মত এখন একান্তই রাষ্ট্র কর্তৃক জনসাধারণরে শাসনের অস্ত্র। সেই অস্ত্রের জয়গান যদি গান বুইঝা শুইনা গান।

একুশের চেতনা এখন আর বিরোধের চেতনা নয়, বরং শাসিত হওয়ার বাঞ্ছা। এই বাসনার জাতীয়তাবাদী অবস্থান শনাক্ত করেন। দ্রুত মানুষ হইয়া ওঠেন।

২০১৬/২/২১

 

Leave a Reply