তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ফেসবুক লাইকের ১ ভোট বা সমর্থনের রাজনীতি

ফেসবুকে আপনি তর্কে কারো অবস্থানরে যখন কোনো কমেন্ট বা মন্তব্য ছাড়াই সমর্থন করেন বা লাইক দেন, আপনার লাইক সেই তর্করে তর্কহীনভাবে সত্য দাবি করতে থাকে।

আপনার মূল্যবান ১ ভোট দিয়া সমর্থনকারীর সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে তর্ক নিয়ন্ত্রণে ব্রতী হন আপনি।

কিন্তু সমর্থনকারীর সংখ্যাই সব না। কখনো অনেক সমর্থন বা লাইক থাকার পরেও তর্ককারীর ভরাডুবি ঘটে।

আবার ওই তর্ক জিতলে আপনিও জিতেন, আপনারও ক্ষমতায়ণ ঘটে।

এইটারে বলা যায় ফেসবুকে মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার ভোট পদ্ধতি।

তাতে আপনি লাইক প্রদানের মাধ্যমে ভোটদাতা হিসাবে একটা মতের পক্ষে আপনার রাজনৈতিক অবস্থানরে জানান দেন।

তা খারাপ না। যার কোনো বক্তব্য নাই, অবস্থানই তার বক্তব্য।

তবে একটা ফাঁকি আছে।

আপনার সমর্থিত তর্কের যখন খণ্ডন ঘটে বা তর্কটা যখন ধরা খায়, তখন আপনি আপনার ১ ভোট লাইকটা সাধারণত ওঠাইয়া নেন না।

কেন নেন না?

তর্ককারী তার নিরবতার মধ্য দিয়া বা নতুন তর্কের উত্থাপন আর না কইরা বা বইলা কইয়া যেমন তর্কের পরাজয় মাইনা নেয়, আপনি কিন্তু তা করেন না!

আপনার লাইকগুলি পরাজিত তর্কটাই যে ঠিক তেমন একটা ভুয়া অবস্থার সমর্থন হিসাবে তখনও হাস্যকরভাবে পত পত করতে থাকে।

কী সমর্থন করে সেগুলি তখন?

আমার প্রশ্ন ছোট। আপনি যদি তর্কের পরাজয়রে পরাজয় হিসাবে না মানেন তবে সে বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নাই কেন?

সমর্থন করার সাহস ও অবস্থা যদি থাকে তবে পরাজয় মাইনা নেওয়ার সাহস আর থাকে না কেন আপনার?

আপনি হঠকারী?

হঠকারীদের সমর্থন দিয়া তর্কে অংশগ্রহণকারীরা কী বাল ফালাবে তবে বলেন!

২৫/১০/২০১৭

Facebook Comments

Leave a Reply