তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম মেকার ছিলেন না তারেক মাসুদ

১.
অনেকের ধারণা অমিতাভ রেজা নন তারেক মাসুদই আসল ‘বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম মেকার’।

আমি তারেকের ‘মাটির ময়না’ দেখি নাই। অন্য ছবি যে গুলি দেখছি তার ভিত্তিতে মনে হইছে উনি ওয়ার অন টেররের যেই মুসলমান সাইজ করার প্রকল্প তারই ফিল্ম মেকার ছিলেন।

এই ছবিগুলি বানানোর খরচ কারা জোগাইছেন তাও দেখতে বলব আপনাদের।

সে অর্থে এগুলি বাঙালী মুসলমান বিরোধী ফিল্মই ছিল। বা বাঙালী মুসলমানদেরকে ইউজ কইরা ফিল্ম।

২.
ছবি নির্মাতা অমিতাভ  রেজা সম্প্রতি তার ছবি ‘আয়নাবাজি’ প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে নাকি নিজেকে ‘বাঙালী মুলমানের ফিল্ম মেকার’ বলছেন বইলা পত্রিকায় খবর আসছে। তবে পরিচালক এই রকম বলেন নাই বইলা দাবি করছেন। তার কথা অনুসারে তিনি নিজেকে ‘বাঙালী মুসলমান ফিল্ম মেকার’ বলছেন।

সেদিক থিকা তারেক যতটুক অমিতাভ ততটুকুই ‘বাঙালী মুসলমান ফিল্ম মেকার’।

৩.
ইসলাম নিয়া ডিল না করলেও বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম হইতে পারে।

এই দেশে নাটক সিনেমায় হিন্দুদেরকে যেভাবে অদৃশ্য কইরা দিয়া ফিল্ম তৈরি হয় তা বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম নয় বরং হিন্দু অদৃশ্যকারী ফিল্ম।

যেমন বম্বের অধিকাংশই মুসলমান অদৃশ্যকারী বা হীনকারী হিন্দু জাতির ফিল্ম।

কিন্তু তার আলাদা ঘোষণা দেওয়ার কোনো দরকার হয় না। ঘোষণা হয় না বইলাই যে তা সকলের ফিল্ম তা তো আর নয়।

৪.
বাঙালী মুসলমান সমাজে হিন্দু ও অন্য জাতি সমূহের অংশগ্রহণ সাপেক্ষে বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম হইতে পারে।

দেখতে হবে ভরকেন্দ্র কোথায়।

বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম বানাইতে গেলে এই পরিচয়ের সারবত্তা তৈরিকারী বিরোধী অবস্থানগুলির সমালোচনা বা প্রদর্শন থাকতে পারে সিনেমায়। তেমন কি ফিল্ম হইছে এই দেশে? তা কি আদৌ সম্ভব?

মনে হয় না। ইন্ডিয়ারে দুই বেলা পূজা দিয়া বাংলায় বাঙালী মুসলমানের ফিল্ম সম্ভব নয়।

৩/১০/২০১৬

Leave a Reply