তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

বাপেদের মন

মেয়েদের সাথে কথা বলাটা খারাপ কেন? গুণা হয় নাকি? মেয়েদের প্রতি গোপন ধর্ষণেচ্ছা সুপ্ত থাকে এই কথা বলার মধ্যে? নাকি মেয়েদের বাপেদের প্রতি অবিচার হয়? অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে কথা বলাটা কেন খারাপ? ১৮ বছর না হওয়ার কারণে নারী বিষয়ে অযৌন না-থাকাটা সমস্যার কেন? আধুনিক আইনসম্মত যৌন অভীপ্সার ওকালতি করতে চাই আমরা? কোন দেশের আইন?

মেয়েদের বিয়ের বা সাবালক হওয়ার বয়স হিসাবে ১৮ বছরের হিসাব সকল দেশে কার্যকর না। ইরানে ৯ বছরের মেয়েরে বিয়ে দিতে পারে তার বাপমা। দেয়ও। এখন বাংলাদেশে বইসা আমি তাদের খারাপ বলব আমেরিকানদের মতো? কিন্তু সেইখানেও তো, টেক্সাসে ১৬ বছর বয়সে আব্বা-আম্মা রাজি থাকলে মেয়েরা বিয়া করতে পারে–এমনকি ১৪ বছর বয়সেও বিয়া করতে পারে, আদালতের অনুমতি নিতে হয় তাতে। দুই জন লোকের স্বেচ্ছা যৌনকর্মের মধ্যে বয়সটা ঠিক কী কারণে বাধা?

এখন যারা মেয়েদের বয়স ১৮ হইলে পরেই খালি তাদের নিয়া লিখবেন কি যৌনচিন্তা করবেন, বা আদৌ মেয়েদের নিয়া যৌনচিন্তা করবেন না তাদের নিয়া আমি কী বলব? বা সেই টেক্সাসের ১৪ বছরের বিয়া বসতে চাওইন্না মাইয়াই বা কী করবে! সে আপনারে করতে চায় কিন্তু আপনার তো আঠারো না হইলে হয় না! আপনের লেখালেখিতে মেয়েরা কেবল ১৮ বছর হওনের পরেই ঢুকতে পারবে। খুব আইনসম্মত লেখালেখি আপনেরা করতে ধরছেন!

এই যে সব মেয়েদের (ছেলেদেরও) কেবলি ফেরেশতা /শিশু হিসাবে দেখা–এই জিনিস আপনাদের কী দেয়? যৌনইচ্ছারে কেবল পুরুষের আর প্রাপ্ত বয়সের লোকের জিনিস ভাবতে গিয়া আপনেগো এই অল্পপ্রাণ চিন্তার উপক্রম। অল্প বয়সীরাও, মেয়েরাও, যৌনচিন্তা করে, যৌনকর্ম করে। তাদের বয়স হয় নাই বইলা কেউ তাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না। যদি করে তবে সেই চিন্তা ধর্মচিন্তা। তাতে বেশি মন দিয়েন না। বয়স-সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করবেন না।

অল্পবয়সী কেউ যদি বেশি বয়সী কাউরে ফোন করতে চায় তা কেন খারাপ বলুন তো সমাজের আব্বা-আম্মারা? ঠিক কী কারণে খারাপ? তা যদি খারাপ না হয় উল্টাটাও খারাপ না। বরং ওইটা ঠেকানোর যে সমাজ-মানস তারে বলা যায় মেয়ের বাপেদের যৌন ঈর্ষার সামাজিকীকরণ। আপন মেয়ের প্রতি যৌন বাসনার প্রকাশ এই জিনিস। এবং তা যেহেতু তার কাছে পাপকর্ম, সুতরাং মেয়ের তুলনায় বড় যে কোনো লোকের সঙ্গে মেয়েটির যৌনকর্মরে বাপটি নিজের অংশগ্রহণ হিসাবে দেখতে পায়। তাই এইটা সে যে কোনো মূল্যে ঠেকায়। ভালো শিক্ষা দীক্ষা অনুশীলন বাপদেরকে এই গূঢ়ৈষা থিকা মুক্তি দিতে পারে। আজকে যে ঈভ টিজিং করতেছে বাপ হওয়ার পরে সে আপন মেয়েরে বন্দি কইরা ফেলবে। কারো লগে মিশতে দেবে না কারো লগে করতে দেবে না, স্বাভাবিক।

দেখবেন বাপ তার মেয়েরে অন্য পুরুষের হাতে ওঠায় দেয় বিবাহ উৎসবে। এর অর্থ কী? এতদিন মেয়ের অচর্চিত যৌন বিষয় বাপের এখতিয়ারে ছিল!

অবশ্য আপন শ্রেণীর বাইরে কোনো মেয়ে বিয়া কইরা ফেললেও সংসর্গ করতে দিতে চায় না বাপেরা। স্রেফ মাইরা ফেলায়।

কন্যা-সন্তানের যৌনকর্ম ঠেকানোর চিন্তাটা খুব শক্তিশালী বাপেদের মধ্যে। ছেলেদের নিয়া তাদের সেই সমস্যা নাই। কেন?

২৯/৫/২০১০

 

Facebook Comments

Leave a Reply