তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ব্রা স্ট্র্যাপ নিয়া এদিককার মেয়েদের যে লজ্জা তা কিন্তু স্বাভাবিক

১.
সমাজে লজ্জা জিনিসটা আদৌ না থাকলে এক কথা। থাকলে ব্রা-এর ফিতা বিষয়েও লজ্জা থাকতে পারে। ব্রা বিষয়ে যে লজ্জা বা ট্যাবু তার মূলে নারীর নিজের স্তন বিষয়ক ট্যাবু। কোনো ট্যাবুরেই অদরকারি বলার যো নাই। ট্যাবু ট্যাবুই।

ট্যাবু তৈরি হওয়ার পিছনের যেই কারণগুলি থাকে তার উপস্থিতি সত্ত্বেও ট্যাবু উড়াইয়া দিলে আখেরে ফায়দা হয় না। সাহসী কিছু মানুষ আলাদা বর্গ তৈরি করে মাত্র। তাতে সমাজে ট্যাবু জনিত নিষেধাজ্ঞা কমে না, বরং বাড়ে।

মানুষের যৌথ অবচেতনে বিশ্বাস বা ট্যাবুর যা আবেদন তা কমানো অত সহজ কাজ না। ব্রা যদি ট্যাবু হয় তা নিশ্চয়ই ছেলেদের ট্যাবু না। মেয়েদেরই ট্যাবু।

পশ্চিমে ব্রা স্ট্র্যাপ হেডব্যান্ডসও পরার চল আছে। সেখানে ব্রা-এর ফিতা দেখানোটাই দস্তুর। পুব ফিতা নিয়া লজ্জায় আছে।
পশ্চিমে ব্রা স্ট্র্যাপ হেডব্যান্ডসও পরার চল আছে। সেখানে ব্রা-এর ফিতা দেখানোটাই দস্তুর। পুব ফিতা নিয়া লজ্জায় আছে।

২.
ব্রা দরকারি। ব্রা মেয়েরাই পরে। নিজের ইচ্ছায়ই পরে। লজ্জার সঙ্গে ব্রায়ের সম্পর্ক।

যেসব দেশে মেয়েরা পোশাকের মাধ্যমে বুকের আকৃতি বা গড়ন দেখাইতে লজ্জা পায়, তারা ব্রা পরে। জনসমক্ষে খোলা বুক দেখাইতে লজ্জা পায় না অথচ ব্রা-এর ফিতা দেখাইতে লজ্জা পায় তেমনও হইতে পারে জটিল মনস্তাত্ত্বিক কারণে, তবে আমি এই রকম জানি না।

৩.
আমি পুরুষ হিসাবে নিজে আমার যৌনাঙ্গ (একটা) বাইর কইরা জনসমক্ষে হাঁটতে লজ্জা পাই, মানে সেই রকম এখনো হাঁটি নাই। মনে হয় লজ্জার কারণেই।

এমনকি জাইঙ্গা বা আন্ডারপ্যান্ট পইরা লোকের সামনে যাইতে লজ্জা পাই, এই লজ্জা যদি ট্যাবু হয় তবে সেই ট্যাবু যারা ভাঙার ভাঙুক। আমি নাই এই লাইনে।

স্ট্র্যাপ লুকানির টিপ বুতাম।
স্ট্র্যাপ লুকানির টিপ বুতাম।

৪.
যে মেয়েরা ব্রা জিনিসটা গোপন করতে চায় তাদের অধিকারে ব্যাঘাত না ঘটুক। যারা নিজেদের শরীর হিজাবের আড়ালে গোপন করতে চায় তারা তা করতে পারুক। এবং যে মেয়েরা নিজেদের বুক ও ব্রায়ের ফিতা দেখাইতে ইচ্ছুক তারাও তা করতে পারুক।

সকলের উপরে নিজেদের রুচি মাফিক স্বাধীনতা বা এক্সপেরিমেন্ট চাপাইবেন না যেন। জাস্ট অনুরোধ।

১৩/১০/২০১৫

Leave a Reply