তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ভণ্ড বুদ্ধিজীবী বলতে কী বোঝায়?

১.
সক্রিয় বুদ্ধিজীবীর পক্ষে আগের অবস্থান থিকা সইরা যাওয়া কোনো ব্যাপারই না। যেহেতু তিনি চিন্তা করতে সক্ষম।

এরে ভণ্ডামি বলা যাবে না। দেখতে হবে বুদ্ধিজীবীটি তার নতুন অবস্থানরে ব্যাখ্যা করতে পারতেছেন কি না।

বরং বুদ্ধিজীবীর ভণ্ডামি হবে সেইটাই তিনি যদি তার নতুন বুঝতে পারারে চাপা দিয়া পুরানা অনগ্রসর পিপলের আপত্তির কারণে নতুন চিন্তাটিরে ধামাচাপা দেন।

দেশে সচেতন জনগণের সংখ্যা বাড়লে তা বুদ্ধিজীবীদের জন্যে হতাশার ব্যাপার হইতে পারে। কারণ সচেতন পাবলিক নিজেরাই একটা একটা ছানা-বুদ্ধিজীবী।

ছানা-বুদ্ধিজীবীদের বেসিক জিজ্ঞাসার সরব ও নীরব উত্তর দিতে দিতে বহু সম্ভাবনাময় ও র‍্যাডিকেল বুদ্ধিজীবীর রাজনৈতিক বা সামাজিক মৃত্যু ঘটতে পারে।

ফলে তথাকথিত ‘ভণ্ড বুদ্ধিজীবী’ বা ‘বুদ্ধিবেশ্যা’ হইতে দ্বিধা করবেন না।

এনজয় সানা-বুডডিজিবিস।

২.
দেশের সাধারণ জনগণ সচেতনতার একটা পর্যায়ে নিজেরাই যখন বুদ্ধিজীবীতে পরিণত হন তখন তাদেরকে বলা যাইতে পারে ছানা-বুদ্ধিজীবী।

এই পর্যায়ের বুদ্ধিজীবীরা সাধারণত সরকার, সমাজ ও ব্যক্তির দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়া কথা বলেন। এদেরকে ‘অভিযোগবাদী’ বুদ্ধিজীবীও বলা যায়।

এরা নিজেরা ‘অসৎ’ এবং ‘দলবাজ’ হইতে পারলেও সর্বদাই সততা এবং নিরপেক্ষতাই এদের বুদ্ধিজীবীত্বের মাপকাঠি।

এরা সক্রিয় বুদ্ধিজীবীদের আগ-পর মিলাইতে না পারলে ভণ্ড বইলা গালি দিয়া থাকেন।

ছানা বুদ্ধিজীবীদের দৌড় এক রকমের স্থিরতা বা দণ্ডায়মানতায়; যথা—মানববন্ধন!

৩.
অনেক বুদ্ধিজীবী আগে গরিব মানুষের জন্যে কথা বলতেন এখন বড়লোকদের স্বার্থের কথাও বলেন। আগে মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আলাপ করতেন না এখন হেফাজতরেও আলাপে আনেন। আগে দেশপ্রেমে হাবুডুবু খাইতেন এখন আর তার দেশপ্রেম বলতে নাই। আপনি স্বার্থপর মিডল ক্লাস, আপনারে নিয়াও তিনি আর আগের মত বলেন না।

মন খারাপ করবেন না। বুদ্ধিজীবী তো আর আপনার বাগানের আতাফল গাছ নয় যে আপনি খাবেন তাই তাতে ফল ধরবে!

তিনি স্বাধীন। আপনার চিন্তা তিনি আর করেন না বা আপনার দুই নাম্বারিগুলি তিনি ধরতে শুরু করছেন তার কারণে তিনি ভণ্ড হইয়া যান না।

বুদ্ধিজীবী একটু দয়ালু হইলে বা তার পুরানা কাষ্টমারদের নিজের লাইনে টানতে চাইলে তার পুরানা পথ থিকা বা চিন্তা থিকা সইরা আসার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে পারেন।

বুঝতেই পারতেছেন সেই ব্যাখ্যা তিনি নাও দিতে পারেন।

আপনার না বোঝার কারণে তিনি ভণ্ড হবেন না।

যেহেতু ভণ্ডামির প্রশ্ন, তিনি সঠিক কিনা তা দেখার একদমই প্রয়োজন নাই।

কেন তিনি নতুন পথে বা নতুন চিন্তায় তা জানাই যথেষ্ট বুদ্ধিজীবীকে যারা বুঝতে পারেন না তাদের জন্যে।

তিনি সঠিক কিনা সেইটা যেহেতু তারই ব্যাপার সুতরাং এই লাইনে তার ভণ্ডামির প্রশ্ন আসে না।

বুদ্ধিজীবীর কোনো দায় নাই স্বার্থপর মিডলক্লাস বা ধুকে মরা গরিব বা বড়লোক নেতানেত্রীদের কাছে।

বুদ্ধিজীবী স্বাধীন। তিনি বরং তার কোনো বক্তব্য বা যুক্তিতর্ক লইয়া হাইরা যাইতে পারেন।

জিতা দিয়া বুদ্ধিজীবী হয় না লোকে। বুদ্ধিজীবী বিবেক নন।

আপনি বলতে পারেন তিনি মুখে একটা বলেন আর করেন উল্টাটা, সেইটা তার ভণ্ডামি। না। বুদ্ধিজীবী যারা না তাদের ক্ষেত্রে এইটা আপনি বললেও বলতে পারেন। বুদ্ধিজীবীর ক্ষেত্রে না।

বুদ্ধিজীবীর নতুন কাজও তার নতুন চিন্তারই অংশ, পুরাতন চিন্তার সঙ্গে তার সংঘর্ষ হইতেই পারে।

সেইটা আপনারে বইলা বইলা নিবেন কেন তিনি!

তিনি কি আপনার বাগানের আতাফল গাছ?

১৮-১৯/১০/২০১৪

Leave a Reply