তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

ভাষা ও হরফের রক্ষণশীলেরা

যে কোনো হরফেই যে কোনো ভাষা উচ্চারিত হইতে পারে।

ভাষা আর হরফের লেনদেনের এই সংখ্যাহীন সম্ভবপরতা সংকেত ও অর্থের অসীম সম্ভাবনারই বার্তা দেয়।

কিন্তু মানুষ ভাষাকে তার নিজের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য মনে করে। সে মিথ্যা ভাবে মনে করে ভাষা ছাড়া মানুষ নাই!

নিজের আবিষ্কৃত ভাষারে মানুষ এভাবেই নিজের উপরে স্থান দেয়।

কোনো নির্দিষ্ট হরফে নির্দিষ্ট ভাষারে ফিক্সড কইরা দেওয়াটা রক্ষণশীলতা। যখন আমরা রোমান হরফে বাংলা লিখলে আপত্তি করি, সেই আপত্তি অনধিকার আপত্তি।

অবশ্যই আমার ইংরাজি অর্থাৎ রোমান হরফে বাংলা দেখতে ভালো লাগে না। নিশ্চয়ই আমারে যা শিখানো হইছে সেই সংস্কার‌ই এর কারণ। কিন্তু আমার শিক্ষায় আমি আটকা পইড়া থাকতে চাই না। আমি চাই বুঝতে।
আমি এই রকম বুঝি যে যার ইচ্ছা রোমান হরফে বাংলা লিখবে, জাপানি হরফে লিখবে, আরবিতে লিখবে, চাইনিজে লিখবে আরো যত হরফ আছে তাতে লিখবে। তাতে ভাষার মধ্য দিয়া নানান নতুনের আবির্ভাব সম্ভব। এবং ভাষা মানেই অপার সম্ভাবনাময়।

ভাষারে প্রায়শই নির্দিষ্ট একটা হরফের কোটরে কুণ্ঠিত রাখি আমরা। আমরা ভাষার নাদান ছেলেমেয়েরা।

যদি নির্দিষ্ট হরফে নির্দিষ্ট ভাষা হইতেই হবে, তবে সে দাবির নাম পৌত্তলিকতা।

৩/৭/২০১৬

Leave a Reply