তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

“যেইখানে যেই সুযোগ পাই কাজে লাগাই। যেইখানে নাই লাগাই না।….”

২০০৯ সালে সামহোয়ারইনব্লগ কর্তৃপক্ষ একবার আমাকে ওয়াচ তালিকায় রাখা শুরু করে। তারা আমার লেখা আর ফ্রন্ট পেজে দিতেন না সেই সময়। তখন কৌশিক ‘ব্রাত্য রাইসু’ নামে তাঁর পোস্টটি লেখেন। সেই পোস্ট ও তথায় করা সুমন রহমানের একটা ছোট কমেন্টরে ধইরা সুমন রহমানরে সম্বোধন কইরা আমি একটা কমেন্ট লিখছিলাম। এইখানে কৌশিকের সেই পোস্ট, সুমনের কমেন্ট ও আমার কমেন্ট দেওয়া গেল। – ব্রারা ২/৮/১৩

some

কৌশিক আহমেদের পোস্ট, সামহোয়ারে

ব্রাত্য রাইসু

প্রচুর গালি খেয়েছেন এই ব্লগে। এখন যারা ব্লগ লেখেন তাদের অনেকেই তার হাত ধরে সামহোয়ারের সাথে পরিচিত হয়েছেন। সেই সূত্রে প্রায় হাজারখানেক তো হবেন যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে রাইসু দার কারণে ব্লগার হয়েছেন।

সামহোয়ারকে একদম হুদাহুদিই তিনি মার্কেটিং করেছেন। লেখালেখির জন্য আধুনিক মিডিয়াম অবলম্বনের জন্য পরিচিতদের পরামর্শ দিতেন। নিজে সেটা দেখেছি। ব্যক্তিগতভাবে তাকে ব্লগার হিসাবে আগে চিনেছি, পরে জেনেছি তার অন্যান্য পরিচয়।

দীর্ঘদিনে ব্লগের কাইজা-ফেসাদে নানাসময়ে তাকে ত্যক্ত করেছি। মতামত ভিন্ন হইলেও তাকে কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে দেখি নাই, অথচ তিনি ভিন্নমতের কারণে গাইলের শিকার হইছেন।

তার লেখা আমার ভালো লাগে, যেখানেই তিনি লিখবেন আমি অবশ্য সেখানে গিয়াই পড়বো। কিন্তু তার ব্লগটা নাই দেইখা খুব কষ্ট লাগলো।

কৌশিক । ১ মার্চ ২০০৯

সুমন রহমানের কমেন্ট:

পোস্ট ভালো লাগল। রাইসুকে মিস করবে সামহোয়্যার।

সুমন রহমান । ৪ মার্চ ২০০৯

আমার কমেন্ট, সুমনকে লেখা

সুমন, কৌশিকের এই লেখাটা আমার পছন্দ হইল না। প্রথমত আমি ভাবছি কর্তৃরা ওনার এই লেখারে ফ্রন্ট পেইজে দেন নাই। পরে ওনারে ফোনে জিগাইতে জানাইলেন উনিই দেন নাই, কারণ বিডিআর সমস্যার এই সময়ে এই লেখা ফ্রন্ট পেজে আসলে পরে…!

তো আপাতত (বিডিআর সমস্যার এই সময়ে) ফ্রন্ট পেজে আমারে যাইতে দেওয়ার ব্যাপারে কৌশিকও একই ধরনের রাখডাক মান্য করেন। তা আমার ভালো লাগার কথা না। আর আমি কৌশিকের কাছে তো বিদায় সম্ভাষণও চাইতেছি না। উনি জোর কইরা দেওয়ার চেষ্টা করতেছেন। উনি সামহোয়্যারের অনিয়মতান্ত্রিকতার ব্যাপারে কোনো কথা বলবেন না আবার আমার সঙ্গেও লেখ্য জগতে ভাবমূর্তি বজায় রাখবেন! উদারনৈতিকরাও এই রকম করে না।

সামহোয়ার কর্তৃপক্ষ উপর্যুপরি কারণের উল্লেখপূর্বক আমারে ওয়াচ তালিকায় যখন রাখেন তখন যেহেতু কৌশিক বা অন্য কারো কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নাই তা মিন করে এই হাতুড়ে পদ্ধতির ব্যাপারে কৌশিকের ও অন্যান্যদের অবস্থান নিবেদনমূলক।

আমি সামহোয়ার ছাড়িও নাই। পোস্ট করব না, তবে মন্তব্য করব এই হইল আমার অবস্থান, আগেই বলছি। কৌশিকের বেদনাবিধূর পত্রপাঠে আমার আত্মায় সেতার বা সন্তুর বাইজা উঠতে চাইছিল — ভাবছিলাম তাইলে তো আর কমেন্টও করা উচিত না এইখেনে। কিন্তু আমি অভিমানী দেয়ালপত্রিকার সাধিকা নই। যেইখানে যেই সুযোগ পাই কাজে লাগাই। যেইখানে নাই লাগাই না। ফলে…

বুঝতেই পারতেছেন, কেন আমি কৌশিকরে সম্বোধন না কইরাই এই কমেন্ট করলুম।

ব্রাত্য রাইসু । ৭ মার্চ ২০০৯

Flag Counter

Leave a Reply