তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

যে কারণে ২১শে ফেব্রুয়ারি, ৮ই ফাল্গুন নয়

২১শে ফেব্রুয়ারি কোনো ইংরেজি তারিখ না। এইটা বৈশ্বিক একটা সময় পরিমাপক। বাংলাদেশের জন্য ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা তারিখই। ফলে যারা ৮ই ফাল্গুনের শহীদদের কেন ২১শে ফেব্রুয়ারিতে স্মরণ করা হয় বইলা হুতাশন করেন তারা ক্ষুদ্র দেশদর্শীতায় ভূগতেছেন। আগের দিনে দেশে দেশে দেশে এত যোগাযোগ আছিল না। একেক জায়গা একেক টাইম দিয়া চলত। এখন দুনিয়া খ্রীস্টান টাইমে বান্ধা পইড়া গেছে। যাওয়াটা অনুচিত হইছে। কিন্তু এইটাই সাময়িক বাস্তবতা। বাংলা টাইমরে দুনিয়াবী করনের উদযোগ নেওন যায়। তাতে সমস্যা একই। আর তা যদি না করা হয় তাইলে বাংলা টাইম লালন-পালন করাটা খারাপ না। ঘরের ছাদে লাউয়ের মাচা যেমন ভালো… তেমন ভালো তো বটেই।

লাউয়ের মাচা ভালো, দেশের ফাল্গুন ভালো। চাষবাসের ক্ষেত্রে যদি বাংলা তারিখগুলা কাজ দেয় খুবই ভালো। কিন্তু তা দেশের ভিতরের কর্মকাণ্ডের জন্যই ভালো। যারা ফকিন্নি, যাগোরে ঠকাইতে হইব তাগোর জন্য আমরা দেশী তারিখ বরাদ্দ রাখমু। অরা, অই চাষারা বাংলা তারিখ দেইকখা ধান চাষ করুক, আলু চাষ করুক, শিং চাষ করুক, নীল চাষ করুক। বাংলা তারিখ এগুলার জন্য হেল্পফুল। বাইরের লগে যোগাযোগের জন্য ঐ তারিখ কোনো কাজে আসবে না, যতদিন না আমরা এই বাংলা তারিখরে সারা দুনিয়ার উপর চাপাইয়া দিতে পারতেছি।

আমার মনে হয় না সেই চেষ্টা এখনই করাটা সমীচীন হবে। চীনও তার তারিখরে অন্য দেশে খাওয়াইতে পারে নাই। খ্রীস্টিয় তারিখ আরামে চলতেছে, তা যেই কারণে খারাপ সেইটা হটায় দিয়া অন্য তারিখ ইভেন বাংলা তারিখ আসলেও একই খারাপে খারাপিত হবে।

আর একটা জিনিস, ইন্টার ন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে নিয়া যে এত গর্ব বাংলাদেশীর সেইটাও বাংলা ফাল্গুন দিয়া করা যাইত না। কারণ ইন্টার ন্যাশনাল ডেগুলা এখনও খ্রীস্টিয় দিবস অনুসারে আগায় যায়।

তো, আন্তর্জাতিকতা বা খ্রীস্টিয় টাইম সেন্স থাকনের কারণে ভাষা সৈনিকদের প্রশংসা করতে হয়; তারা এই দিবসরে ৮ই ফাল্গুন বানায় ফেলেন নাই। দুনিয়ার মানুষের লগে—তাদের সময়ে ঢুইকা গিয়া—দিবসটারে ভাগ কইরা নিছিলেন। এমনিতে ফেব্রুয়ারির চেয়ে ফাল্গুন বলতে ও শুনতে আমার মধুর লাগে… ফাল্গুনের চেয়েও ঈষৎ শুষ্ক ও মধুর ‘ফাগুন’—ফাগুনের কী গুণ আছে কে জানে? বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ কমাইয়া বলছেন ‘আগুনের কী গুণ আছে কে জানে’।

তা উনি বলতেই পারেন। যেহেতু ফাগুন নিয়া অন্য কবিতা লিখছেন। ফেব্রুয়ারি নিয়া তিনি কিছু লিখছেন বইলা শুনতে পাই নাই।

২১/২/২০১০

 

Facebook Comments

Leave a Reply