তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

শহীদুল জহিরের বাক্যের প্যাটার্ন নির্ভর নাট্য-উপন্যাস

১.
শহীদুল জহির একটা দুইটা তিনটা বাক্যের প্যাটার্নের উপরে উপন্যাস লেখার চেষ্টা কইরা গেছেন।

সৈয়দ শামসুল হকেরও এই রকম লন্ডন নকশার উপন্যাস আছে বাক্যের প্যাটার্ন নির্ভর। অর্থাৎ বাক্যের একটা নিদির্ষ্ট গড়নের উপর পুরা উপন্যাস ঘুরতাছে। অনেকটা ভূমিকা দিয়াই উপন্যাস শেষ করার দশা। উপন্যাসের ভিতরের চরিত্রেগো খবর নাই। ওনারাও, ওই চরিত্রেরাও, লেখকের ঐশী বাকপ্রণালীতে সকলে বাক-টাক করে।

বড়ই ছোট মাপের উপন্যাস।

হক সাহেব প্রভূত কলামও লিখছেন সেই আমলে ‘দৈনিক সংবাদ’ নামের একটা পত্রিকায়, এই রকম বেহুদা বাকভঙ্গিসর্বস্ব। পড়া বেশ কষ্টসাধ্য। না পড়লে দেখবেন একদমই কষ্ট হয় না।

২.
হক সাহেবরে বাদ দেই। জহির তার জীবদ্দশায় মূলত নকশা লিখা গেছেন—নকশা উপন্যাস। যে কারণে তার চরিত্র, ঘটনা, স্থাননাম ঘুইরা ঘুইরা আসে। চৈতের বাতাসের মতন। গান গান বা নাট্য নাট্য অবস্থা তৈরি করে এই রকম উপন্যাস।

নাটকের প্রকরণ দিয়া লেখা এই উপন্যাসগুলি বাংলা নাট্য সাহিত্যের প্রাণের জিনিস হইতে পারে। উপন্যাসের নয়।

উপন্যাস হিসাবে এগুলি মহৎ ফেইলিওর! তবে জনপ্রিয় বইলাই যেমন হুমায়ূন আহমেদ ভাল বা খারাপ ঔপন্যাসিক নন, তেমনি শহীদুল জহিরও ভাল বা খারাপ নন। তিনি সম্ভাবনাময় ঔপন্যাসিক ছিলেন।

তবে তিনি আগের দিনের মধ্যবিত্ত ও অশিক্ষিত প্রায় সকল ঔপন্যাসিকদের মত ভাষাগত কুসংস্কারে আবদ্ধ ছিলেন না। তিনি হীনম্মন্য গ্রামহইতেআসা-দের মত চাকুরিজীবী মধ্যবিত্তের ভাষারে অবলম্বন করেন নাই। যেমনটা বাংলার হালচাষীর ছেলে ও মেয়ে ঔপন্যাসিকরা অবলম্বন করছেন। যারা উত্তরাধিকারক্রমে মধ্যবিত্তের ভাষা পান নাই, আবৃত্তিকর্মীদের মত কইরা বড়লোকের ভাষা রপ্ত করছেন মাত্র—কইরা গেছেন ও এখনও করতেছেন!

আয়ু পাইলে, নিজের লেখালেখি অপছন্দ হইতে শুরু করলে  হয়ত তিনি বড় ঔপন্যাসিক হইতে পারতেন। তবে হুমায়ূন আহমেদের পক্ষে বড় ঔপন্যাসিক হওয়া সম্ভবই ছিল না। তিনি পাঠক চমকাইয়া দিতে ভালো বাসতেন।

বাচ্চারা, যারা উপন্যাস লিখতেছো, জানবা—পাঠকের লগে তোমাগো কোনো লেনদেন নাই। তোমাদের যা কিছু—উপন্যাসের ভিতরে—চরিত্রেগো লগে। পুরানা অর্ধ-ঔপন্যাসিকদের ফলো কইরো না। দেশী ও প্রধানত বিদেশী ভালো ঔপন্যাসিকদের পড়াশোনা করো।

৭/১২/২০১৩

Leave a Reply