তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

সততা আর চৌর্যবৃত্তি একই

সততা প্রাইভেসির চাইতে ছোট বিষয়। আপেক্ষিক বিষয়। প্রাইভেসি আপেক্ষিক নয়, যেহেতু লিগ্যাল।

এবং সততা চায়—আপনার প্রাইভেসির মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে। আপনাকে সততা তার ভাল আর সুসমাচার শোনাবে। আপনার ইচ্ছা, প্রবৃত্তি ও জীবনকে সততা প্যারাসাইটের মত গ্রাস করবে।

সততা নানা নামে এই কার্য সাধন করে। কখনো ধর্ম, কখনো সমাজ, কখনো মানব।

সততা প্রায় আধ্যাত্মিক। ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

২.

চুরি যে চুরি সেইটা নির্ধারণ করে আইন ও সততা। আইন চুরির শাস্তি দেয়। কিন্তু সততা চুরিকে ঘৃণা করতে শিখায়। এখানেই আইনের কাছে সততার পরাজয়।

ভিন্ন আদর্শ, ভিন্ন জীবন ব্যবস্থাকে আইন জায়গা দেয়। আইন শাস্তিদানের মধ্য দিয়া চুরির অপশন চালু রাখে। আইন তাই মহান। সততা নয়।

সততার ঘৃণাব্যবস্থা সেই সুযোগ দেয় না। সততাই সব—এমন মৌলবাদ জারি রাখে সততা ও সৎ ব্যক্তিগণ। সততা আদর্শের কথা বলে।

যে কোনো সততাই সেই সেই আদর্শের মাপে সততা।

৩.
যারে চোর বলি তার কাছে হয়ত সম্পত্তির মালিকানাই চুরি। যদি সে ভিন্ন আদর্শে বিশ্বাসী, তবে হয়ত তার কাছে সততাই চুরি।

মালিকানার প্রশ্ন সাংঘাতিক, সততা সেখান থেকে খুব দূরের কিছু নয়।

সততা আর চৌর্যবৃত্তি মালিকানার ইতিহাস ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে পরস্পরে পরস্পরের প্রতিরূপ মাত্র।

এবং চুরি যে চুরি না, তা বুঝবার সাধ্য সৎ ব্যক্তিদের এই জীবনে হইবার নয়।

যার জিনিস চুরি যায় তার কাছে চুরি চুরিই। যে চুরি করে তার জন্যে তা বড়জোর অসৎ পথের উপার্জন। তবে সেইটাও তো পথই। যদি কেউ গ্রহণ করে, তারে মন্দ বলার আমি কেউ না, যদি আমি না সততার সেবক কেউ একজন হই।

আমি তেমন কেউ নই।

আমার কাছে সততা আর চৌর্যবৃত্তি একই জিনিস। যার যা আদর্শ।

১৯/৯/২০১৬

Leave a Reply