তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

সাহিত্যে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব নাই

১.

আগেকার দিনের জ্ঞানী লোকেরা সাহিত্য বা কিতাবকে সঠিকের মর্যাদা দিত, তাই অভিজ্ঞতার মহা সিন্দুক দরকার ছিল তাদের।

এখন? এখন আর সাহিত্য বা বইপুস্তকে ভগবান খোঁজে না লোকে। সাহিত্য সব রকমের ভার বহনের দায় থিকা মুক্ত। সাহিত্য এখন প্রায় সাহিত্যই না।

আগে কেন তাইলে তেমন ছিল?

যদি প্লেটোর আদর্শ বিড়ালটি কোথাও আছে তবে সাহিত্যেরও জীবন থাকার দরকার আছে। যত কিতাব রচিত হইতে পারবে সব কিতাবের উদ্দেশ্য মূল কিতাবে পরিণত হওয়া। কিন্ত তা তো না।

এখন সাহিত্যের মূল কী? জীবনেরই ঠিক নাই আর সাহিত্য! ফলে অভিজ্ঞতা বা কপি লাইফের প্রয়োজন—আর নাই।

২.

গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা দুইটা ভিন্ন জিনিস।

ডিম ভাজতে কড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা কড়াইয়ের গুরুত্ব বোঝায় না। যদি সব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ তবে কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

যা কিছুই আমাদের প্রয়োজন বা লাগে তা কিছুই আমাদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ—এমন না।

সারাদিন আপনি যা করতেছিলেন তার সবই আপনার অভিজ্ঞতা না। অভিজ্ঞতা এক রকমের মূল্য আরোপন। প্যাটার্ন বা ছন্দ আবিষ্কার কইরা তা অনুসরণ করতে থাকা। ও অন্যকে সংক্ষিপ্ততম সেই রাস্তা দেখানো।

সাহিত্যে একশোটা বা হাজারটা জিনিস দরকার পড়ে। অভিজ্ঞতাও তার মধ্যে একটা। যা যা কিছু সাহিত্যে আসে বা আমরা ব্যবহার করি তার সবই কি গুরুত্বপূর্ণ?

না মনে হয়।

২১/৪/২০১৬

Leave a Reply