তর্কের যে নিয়ম প্রশ্নহীনভাবেই গ্রাহ্য তার বাইরের তর্ক

হায় সাবজেক্টিভিটি! হায় অবজেক্টিভিটি!!

সব লাগাই সাবজেক্টিভ।

যদি তাই হয় তাইলে কেন বরাবর বাক্যালাপে ‘সাবজেক্টিভ’ ‘সাবজেক্টিভ’ কইয়া পিলে চমকাইয়া দিতে হয়? কেন কইতে হয় ‘আমি মনে করি’? এই লাগাটার, এই সাবজেক্টিভটার একটা অবজেক্টিভ আঁকশি দরকার পড়ে কেন? সাবজেক্টিভ যদি সাবজেক্টিভই হবে তাইলে সেইটা কইয়া নিতে হয় কেন?

তাইলে কি ব্যাপার এমনতর যে সাবজেক্টিভরে সাবজেক্টিভ কওয়ার বা স্বীকার করার মাধ্যমে অবজেক্টিভিটির মহলে তার অস্তিত্বখানি হাজির কইরা নিতে হয়? বা সাবজেক্টিভের অবজেক্টিভিটি তৈরি করিতে হয়? মানে (অর্থ) তৈরি হইতে হয়। নাইলে সাবজেক্টিভও সাবজেক্টিভ হইতে পারে না? আর তাইলে সাবজেক্টিভই বা সাবজেক্টিভ থাকে কেমনে?

‘সাবজেক্টিভ’-এর চর্চাকারীদের ‘আমি মনে করি’ ঘোষণা আসলে মহাশক্তিধর ‘অবজেক্টিভ’-এর আনুকুল্যের যাচনা। অর্থাৎ যা সাবজেক্টিভ তা অবজেক্টিভের অধীনে সাবজেক্টিভ থাকতে চায়। আর কী সেই কারণ যাতে কেউ বলে ‘আমি মনে করি’। যেন ‘আমি মনে করি’ তাই তা ‘সঠিক না-ও হইতেই পারে’? এই যে ‘সঠিক না-ও হইতেই পারে’ এর মধ্যে আছে যে সঠিক হইতে হবে।

দেখা গেল, সঠিকতার বা অভ্রান্ততার অধীনতা মাইনা নিতেছে সাবজেক্টিভিটি! আর তাইলে সাবজেক্টিভ বইলা কিছু থাকতেছে না। যারা কম বোঝেন এবং স্বীকার করেন তাদের জন্য বলি, সাবজেক্টিভ যদি সাবজেক্টিভ থাকতে চায় তাইলে তার অন্য কিছুর বশবর্তী বা অনুবর্তী হইলে হয় না। কিন্তু যখন সাবজেক্টিভ নিজেরে সাবজেক্টিভ বলে সেই বলার মারফতে নিজেরে অবেজক্টিফাই করে। এইটা করলে আর সাবজেক্টিভ বইলা দুনিয়ায় কিছু থাকে না।

তো এই সাবজেক্টিভরাও মনে করতেছেন কোথাও সঠিকতা রহিয়া গিয়াছে। সাবজেক্টিভিটির এই মনে করা বা অবজেক্টিভিটির ভিত্তি শক্ত করাটা ঈশ্বরভক্তির সঙ্গে তুলনীয়। বান্দা বলে, প্রভু আমি অধম, ভুল তো হইতেই পারে।

প্রভুর ভুল হবে না!

কিন্তু কী সেই অবজেক্টিভ, যার ভুল হয় না? অবজেক্টিভিটির বাপ বিজ্ঞান-এরও ভুল হয়। যদি অবজেক্টিভিটির ভুল হওয়ার শৌখিনতা থাকতে পারে তাইলে অবজেক্টিভ কী কারণে অবজেক্টিভ? কোনো কারণ নাই। আর যার ভুল হইতে পারে তারে অবজেক্টিভ বলা চলে না। তাই কোনো অবজেক্টিভিটি নাই। কাজেই কোনো সাবজেক্টিভিটিও নাই। ‘আমি মনে করি’ বইলা দার্শনিক কোনো প্রপঞ্চ নাই। সকলেই মনে করে। পুরা সাবজেক্টিভ-অবজেক্টিভ বিভাগটাই নিরীশ্বরদের ঈশ্বরপ্রেম।

আগস্ট ২০০৮

 

3 Comments

Add Yours →

রূপম, দীর্ঘজীবী হইতে কইলেন কী মনে কইরা! : )

ফেইসবুক প্রোফাইলটা যখন পেইজ বানালেন, সকল নোটের সাথে এই লেখাটাও গায়েব হলো। আপনার একটা লেখার কথা মনে করতে গেলে আমার এই লেখার কথা মনে পড়ে। মনে পড়া লেখা বেঁচে আছে বলে তার দীর্ঘ জীবন কামনা করলাম। লেখালুখা ওয়েবসাইটের মতো ক্ষণজীবী না হোক।

Leave a Reply