“কিন্তু তা সত্বেও ন্যায় বা ইনসাফ বলে কিছু একটা আমাদের লাগবেই। নইলে সমাজ গড়া তাতে বসবাস আর খোদ সমাজের টিকে থাকা অসম্ভব।”… “কিন্তু একটা দিক সাবধান থাকার দরকার আছে বলে আমার মনে হয় যে, কোন ন্যায়ের দরকার নাই, ন্যায় বলতে আসলে কিছু নাই এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে যেন আমরা কথা না বলি।”…“ইগোইষ্ট মানে হলো যে, নিজের স্বার্থে যে কোন কিছু করা, যে কোন পথ অবলম্বন করে শুধু না, গুরুত্বপুর্ণ হল তা ন্যায্য মনে করে।”
গৌতম দাসের ফেসবুক কমেন্ট থেকে উৎকলিত

সমাজ যেহেতু টিকা আছে আর আমরা তাতে বসবাসও করতেছি তাই ধরা যাক ন্যায় বা ইনসাফ বইলা কিছু একটা আছে নিশ্চয়ই। মানে আমি তারে ন্যায় জানি বা না জানি ইনসাফ আমার জানবার ব্যতিরেকেই থাকতেছে। এবং যেহেতু গৌতম দা সাবধান করতেছেন ন্যায়ের দরকার নাই ধরনের কথা যাতে আমরা না বলি, তো আমি বললাম না। দেখলাম গৌতম দা নির্দেশিত ইগোইষ্টরাও ন্যায় যে আছে তা বলে। কিন্তু ন্যায় বলতে তার নিজেরটারেই সে ন্যায় মনে করে। তো এমন যদি হইতে হয় যে আমি ইগোইষ্টদের মতো হবো না আবার ন্যায় যে নাই তাও বলতে পারবো না, তাইলে ন্যায়ের সন্ধান করতে হয় আমার বাইরে। রসিকতা কইরা বললে, আমি যা করি না তাই ন্যায়!

যদি বিচার করতে না হয় তাইলে ন্যায় নাই। গৌতম দা কি তবে বলতেছেন, বিচার করতে হবে এবং ন্যায়ের পক্ষে বলতে হবে? আমি এটুকুই বুঝতে পারি, অন্যেরে বিচার করতে হইলে ইগোইষ্টদের মতোই ঘটনা ঘটে, অর্থাৎ নিজেরে ন্যায্য ধরতে হয়। নাইলে কীভাবে বোঝা যাবে কোনটা ন্যায়, আর কী কারণেই ন্যায় বা অন্যায়?

জাজমেন্ট বা বিচার করার ধারণা মানুষের মধ্যে খোদার ধারণা থিকাই আসছে মনে হয়। যদি পরকাল নাই তো বিচার থাকতে পারে কি? আর যদি পরকাল থাকে তো সময় অসীম–তাই বিচার অর্থহীন ও ন্যায় বা অন্যায় অ্যাবসার্ড। আপাতত।

২৭.৬.২০১২

Flag Counter