অন্যায় অবিচার নিয়া কথা বলার দায় কার, বিরোধী দল না বুদ্ধিজীবীর?

অন্যায় অবিচার নিয়া কথা বলার দায় বা কাজ কোনোটাই বুদ্ধিজীবীর না।

এই কাজ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির।

এই যে জনসাধারণগুলি বিরোধী দল বিরোধী হইয়া উঠল, এবং বিরোধী দলের দায়িত্ব বা কর্তব্য বুদ্ধিজীবীদের কান্ধে পাচার কইরা দিল এর কারণ কী?

আলোচনার স্বার্থে ধরেন দেশে সক্রিয় বিরোধী দল আছে, এবং তারা যেহেতু বিরোধী দল, সুতরাং অন্যায় অবিচার নিয়া কথা বলতেছে খুব!

এবং তাদের সঙ্গে গলা মিলাইয়া বুদ্ধিজীবীরাও অন্যায় অবিচার নিয়াই কথা বলতেছে।

কী হইতেছে তাইলে? একটা বেশ কোরাস হইতেছে!

এই যদি হয় বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা তাইলে বিরোধী দল না বইলা তাদেরকে বুদ্ধিজীবী বলবেন কী সেই বিশেষ কারণে?

যেই কথা বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মীরা উঠতে বসতে দুইবেলা দরকারে মিছিল কইরা বলতে পারতো তাদের না থাকার বা অল্প থাকার সুযোগে এখন আপনি চান বুদ্ধিজীবীরা সেই দায়িত্ব পালন করুক।

আপনার চাহিদার সরল অর্থ: দেশে বিরোধী দল না থাকুক!

এবং তা নাইও।

সরকার আপনাদেরকে বিরোধী দলের পরিবর্তে অন্যায় অবিচার লইয়া কথা বলা বুদ্ধিজীবী পাখি উপহার দিয়া রাখছে।

তাতে এক ঢিলে দুই কাজ সারতে পারতেছে গভমেন্ট।

দেশে যে বিরোধী দল নাই তা আপনারা টেরও পাইতেছেন না বুদ্ধিজীবীদের প্রক্সি বিরোধী দল করার কারণে।

আবার বুদ্ধিজীবীদের কাজ যেহেতু বুদ্ধিজীবীরা করতেই পারতেছে না, সুতরাং কীভাবে বিরোধী দল গইড়া উঠবে তারও কোনো আকাঙ্ক্ষা বা নিশানা তৈরি করতে দিতেছে না সরকার ও সরকারের চতুর পরামর্শকরা।

বুদ্ধিজীবীরা জনসাধারণের মতোই সরকারের ঘুঁটি হিসাবে দায় পালন চালাইয়া যাইতেছে।

তাদের পাতে একের পর এক প্রবলেম দিতেছে সরকার, আর তারা সরকাররে একই রকম দোষ দিয়া যাইতেছে। সব প্রবলেমে সমাধান যেহেতু দোষ দেওয়াই তাই এর কার্যকারিতাও আর থাকতেছে না।

এইভাবে সরকারী জনসাধারণ হিসাবে বুদ্ধিজীবীদের হাতে দেশের পৌর দায়িত্ব অর্পণ কইরা আপনারা সরকারের সহযোগী হিসাবে সগৌরবে দেশসেবা কইরা যাইতে পারতেছেন।

খারাপ না।

আপনাদের ও আপনাদের বুদ্ধিজীবীদের কাণ্ডজ্ঞান তৈরি হউক, এই দোয়া করি।

১০/৭/২০২১


Leave a Reply