সমালোচনার মধ্যে পারসোনাল অ্যাটাক, সে ইঙ্গিতে হইলেও, আমি পারসোনালিই নিতে চাই ও নিয়া থাকি। আপনি কী করেন?

সমাজে ব্যক্তির কর্মের সমালোচনাই সব না। ব্যক্তি নিজে কেমন বা কেমন চরিত্রের অধিকারী তারও সমালোচনা চলবে।

তা না করতে দেওয়ার অর্থ সমাজে মানুষের চরিত্র সম্পর্কিত যে ধর্ম উদ্ভূত গম্ভীর ধারণা তা অবিকল রাখা। ও তাকে সমালোচনার বাইরে রাখা। এবং আইন ভিত্তিক সমাজে ব্যক্তির ‘খারাপ’ হইবার অধিকারে বাধা প্রদান।

কাউকে ‘দুঃশ্চরিত্র’, ‘লম্পট’, ‘খানকি’ ও ‘খারাপ’ বলার মধ্য দিয়া তার ওই রকম সব ‘খারাপ’ হওয়ার অধিকার স্বীকার করা হয়। ‘খারাপ’কে খারাপ মূলক ভাবে হইলেও গ্রহণ করা হয়।

তাই যারা ব্যক্তির চরিত্র বিষয়ে নিন্দা করে তারা যারা তা করতে বাধা দেয় তাদের চাইতে অগ্রসর।

বাধাদানকারীরা ‘খারাপ’ হওয়ার অধিকারই দিতে চায় না কাউকে। তারা সমালোচনা ক্ষেত্রে ব্যক্তির কাজ লইয়া ব্যস্ত, ব্যক্তি উধাও!

অর্থাৎ, ব্যক্তি আক্রমণে আমি খুব আছি। আমার এইটা পছন্দ।

২.
চরিত্র নিয়া আপনার পরিবার, ধর্ম ও পড়ালেখা সঞ্জাত যে ধারণা তা আপনি বলবেন না? অবশ্যই বলবেন।

কিন্তু কেউ, যে কিনা মনে করে আপনার এই সব ধারণা থিকা তার ধারণা আগাইন্না সে কী করবে?

সে নিজে কী করবে তা আপনার লগে আলাপ কইরা কইরা করবে? নিশ্চয়ই না।

ধরেন ‘লাম্পট্য’ বিষয়ে আপনি আমার সমালোচনা করলেন, যে আমি আমার চাইতে অনেক কম বয়সী মেয়েদের সাথে সঙ্গ ও মিশ্রণ করি।

এই সমালোচনা তাদের সাথে আমি কী কী করি তার চাইতে বেশি আমার (ব্রাত্য রাইসুর) চরিত্রগত সমালোচনা। তা এই সমালোচনা কি করা যাবে না? অবশ্যই যাবে।

সমাজের একজন হিসাবে, মেয়ের বাপ ও মা হিসাবে অন্তত এইটা করা আপনাকে শোভা পায়।

আপনি মাইক লাগাইয়া সমালোচনা করেন।

৩.
কিন্তু এই ধরনের সমালোচনা, ফেসবুকে, যে করবে তার লগে আমার কী কাম?

আমি তো তারে আনফ্রেন্ড অ্যান্ড ব্লক করবোই।

সেইটারে আপনি বলতে পারেন না ব্যক্তিগত ভাবে নিছি আমি
আমার সংক্রান্ত সমালোচনা।

সমালোচনা কেবল লিখিত তর্কাতর্কিতে শেষ হইবার বিষয় নয়। সমালোচনা বিষয়ে অবস্থান গ্রহণ ঘটবে না? কী আশ্চর্য!

যারা আমার এই ধরনের সমালোচনা করেন আমি জাস্ট সমাজে সে সব পশ্চাৎপদ লোকের সংশ্রব চাই না তাই আনফ্রেন্ড ও ব্লক করি। তার অর্থ এই না, তাকে সমালোচনা করতে বাধা দিতেছি আমি। তিনি তার পৃষ্ঠায় সমালোচনা করুন না গিয়ে, আমার কী?

৪.
আমার যেহেতু যৌন সম্পর্ক, প্রেম-ভালোবাসা ও ডিসক্রিমিনেশন ব্যাপারে তার চাইতে ভিন্ন (ও অগ্রসর) ধারণা তাই আমার দুনিয়া ও ফেসবুকরে এই রকম তেলাপোকা মার্কা সমালোচকদের থিকা দূরে রাখতে চাই।

সব বিষয়ে কেন আমার কথা বলতে হবে!

৫.
এইটা একটা উদাহরণ টানলাম। এই রকম আরো আছে। যে সব বিষয়ে আমি সমালোচনা শুনতেই আগ্রহী না। তা আমার চরিত্র নিয়াই হউক, বা কর্ম লইয়া। আমি দুইটারে আলাদা করি না।

৬.
কী কী বিষয়ে সমালোচনা শুনতে আমি আগ্রহী না তা তো আপনি ঠিক করবেন না, আমি করবো। আমি আমার সংক্রান্ত সমালোচনা কেন পারসোনালি নেই এইটা আপনি ঠিক কইরা দিবেন? অবশ্যই না।

কিন্তু বলতে পারবেন যে ব্রাত্য রাইসু সমালোচনা করতে দেয় না, খালি পারসোনালি নেয়। তা বলেন। কিন্তু অভিযোগ আকারে বললে চলবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে আমারে ডাউন দেখাইতে গিয়া এই রকম বললে চলবে না।

আমি একটিভিস্ট না, রাজনীতিক না। যে কাউরে কথা দিয়া তা রাখতে পারতেছি না বইলা আপনি অনুযোগ করবেন।

৭.
আমি একই সঙ্গে অল্পবয়সী মেয়েদের ও তাদের বেশি বয়সী বাপ ও মাদের সঙ্গে মিশতে কীভাবে পারবো, বলেন?

আপনিই বলেন। আমার ইচ্ছাই তো সব।

আমি কেন কী করি তার সমালোচনা চলে, আমি কী করি না তার সমালোচনা, চলে না। ওইটা গিবৎ।

৩/১/২০২০