‘ডুব’ যে কারণে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পাইতে পারে অথবা ফারুকী কোথায়

১.
আমি বলব, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র কাছ থেকে আরো বেটার জিনিস আমি আশা করি। কিন্তু আমি তো তার স্ত্রী লাগি না যে সে আমার কথা শুনবে।

যাই হউক, ছবি নিয়া দুই একটা কথা বলি। আমার যা মনে হইছে তাই। অন্যেরা তাদের কথা বলবেন।

ছবি দেখতে গিয়া মনে হইছে বিদেশী দুই অভিনেতা-অভিনেত্রীর আলগা আলগা অভিনয়ের ভিতরে ফারুকীর ফারুকীত্ব তেমন অনুপ্রবেশ করতে পারে নাই।

কাহিনীও বেশ সংক্ষিপ্ত। ইঙ্গিত এবং জনসাধারণের জানাশোনার উপর দাবির পরিমাণ বেশি।

এবং ‘ডুব’ ছবিটি ফারুকীর সিগনেচার খুব কমই বহন করে। এইটা সেভাবে ফারুকী ঘরানার ছবি হয় নাই।

তেমন নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যও ফারুকী ‘ডুব’ এর মাধ্যমে যে অর্জন করছেন তাও বলা যাইতেছে না।

যেন তার ঘরানার বাইরে বের হওয়াই ছবির মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তার জন্যে ফারুকী কেন? অন্যেরা তো আছেনই।

লোকাল হইয়া যে গ্লোবাল হওয়ার বিষয় থাকে এটিতে তা নাই, বরং গ্লোবাল (পড়ুন, ইন্ডিয়ান) হইয়া লোকাল হইতে চাইছে ‘ডুব’ । কাজেই তা সম্ভব হইয়া ওঠে নাই। হওয়ার কথাও না।

ইরফান খান নামক ভারি জিনিসের প্রতি বাংলাদেশী সেলফ লিলিপুটদের তরফে জাতীয় শ্রদ্ধার মাত্রা বেশি থাকায় তারে দিয়া অভিনয় করাইয়া নেওয়ার চাইতে ইরফানে কী ফিট করে না করে সে ব্যাপারেই মনোযোগ বেশি ছিল ফারুকীর। এমন মনে হইছে।

অনেকটা দামি অভিনেতার পাশে পাশে থেকে সিনেমা পরিচালনার আনন্দ লাভ জাতীয় ছোট জিনিস, যা ফারুকীকে মানায় না।

২.
‘ডুব’ ছবির একটা জিনিস নিয়া আমার সামাজিক আশঙ্কা আছে। আমি বরং সেইটা ব্যক্ত করি।

আমি মনে করি, সেলিব্রিটি হুমায়ূন আহমেদ ও তার মেয়ের বান্ধবী মেহের আফরোজ শাওন পরস্পররে বিয়া কইরা আমাদের কূপমণ্ডুক সমাজে চমৎকার একটা উদাহরণ দান করছিলেন। ‘ডুব’ তা থেকে আমাদেরকে পিছনে নিয়া যাইতে পারে।

শাওনকে চটুল ভাবে উপস্থাপন করা হইছে ছবিতে। যদি বায়োপিক ধরি, না ধরার কারণ নাই, খুব নিরপেক্ষ উপস্থাপন এইটারে বলা যাবে না।

সমাজে এর পরে এই ধরনের র‍্যাডিকেল বিয়ে করাটা আরো বেশি বিরোধিতার মুখোমুখি হবে। একগামিতার পক্ষে সেক্যুলার রক্ষণশীলদেরকে আরো বেশি নৈতিক শক্তি দান করবে ফারুকীর ‘ডুব’।

হুমায়ূনের আগের ঘরকে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং শিল্পগত পক্ষপাত ফিরাইয়া দেওয়ার কারণে এবং শাওনকে নেগেটিভ চরিত্রে রূপদানের মাধ্যমে ‘ডুব’ আমাদের বদ্ধমূল ও পশ্চাৎপদ নাগরিক দর্শকদের অনেক বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করার কথা।

আরো পড়ুন: ‘মরা গরুর হাড্ডির কারবারী’—শাহ আবদুল করিমের দৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদ

৩.
আমি চাইব, ফারুকী তার সমালোচকদের নিয়া সামনে আগাইতে থাকুক।

সে প্রশংসাবাজদের মুখস্থ তেলের পুকুরে ডুব বা ডুবসাঁতার না দেউক।

২৮/১০/২০১৭

Leave a Reply