sufianazrul

সুফিয়া কামাল ও নজরুল ইসলাম (আলাদা ছবি)

ছায়ানটরে রবীন্দ্র ব্যাপারে বেপারী ভাবতে সমস্যা নাই আমার। স্বর্গীয় রবীন্দ্রনাথের প্রেতাত্মারাও এই ব্যাপারে আপত্তি করবে না মনে হয়। কারণ এই দেশ এখন পর্যন্ত একটা রবীন্দ্র একাডেমি প্রতিষ্ঠা কইরা উঠতে পারে নাই। তবে আবার ওই না হইতে পারা একাডেমিই ছায়ানটের মূল শক্তি। ওই রকম একটা একাডেমি হইলে পড়ে ছায়ানট তখন কী করতো! তো এই সংগঠনের সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন ২৬ মে ২০১০-এ বেবী মওদুদের লগে এক সাক্ষাৎকারে (http://arts.bdnews24.com/?p=2823) বলেন:

ছায়ানটের মূল সাধনাটা বাঙালী হবার এবং চতুর্দিকে আমাদের যারা রয়েছেন, আমাদের সমাজের, আমাদের দেশের সবাইকে খাঁটি বাঙালি করে তোলা। এইভাবেই আমরা অগ্রসর হয়েছি।…

শেখ মুজিবের স্বপ্ন হয়তো খাঁটি ভাবে সফল করতেছেন সন্‌জীদা খাতুন। সবাইরে বাঙালী বানাইয়া ফেলবেন! তা নিয়া আমার থোড়াই আপত্তি। উনি যদি দেশের চৌহদ্দি পার হইয়া ব্রিটিশ, মারাঠি, চীনা সবাইরেই বাঙালী বানাইয়া ফেলতে চান তাহেও আমি আপত্তি দেখি না। মুসলমান যেমন সবাইরে মুসলমান বানাইতে চায়, খ্রীস্টান যেমন সবাইরে খ্রীস্টান বানাইতে চায় এই চাওয়ারে তেমন ভাবে দেখন যাইতে পারে। অন্তত আমার বিষয় যেহেতু অন্য কিছু—এই ফাঁকে ওনারা কিছু পাহাড়-পর্বতরে নাইলে বাঙালীই বানাইলেন!

২.

ছায়ানট ২০০৯ সালে প্রথম নজরুল উৎসবের আয়োজন করে। এতদিন তারা এইটা করে নাই, তা তো ভালোই ছিল। কিন্তু তারা যখন এই উৎসব পালন করতে ধরছে তা কেমন ভাবে করতেছে দেখা যাউক। ১৬ জুন ২০১০ তারিখের প্রথম আলো বলতেছে:

ছায়ানট ২০০৯ সালে প্রথম নজরুল উৎসবের আয়োজন করে। একই সঙ্গে সুফিয়া কামালের জন্মদিনও উদযাপন করা হয় ওই বছর।

যদি ধইরা নেই একটা বেকায়দা টাইমে না খাইয়া থাকতে হইতেছে অথচ কালচার না কইরা উপায় কী ধরনের ঘন ঘটার কারণে এই কাম করতে হইছে ছায়ানটের, মেনে নিতুম। কিন্তু ব্যাপার সেমন নয়। পি আলোর বিনোদন প্রতিবেদক ১৬ জুন রোববারে বলতেছিলেন:

এবার ছায়ানটে নজরুল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে শুক্র ও শনিবার। ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, ‘আমাদের এই উৎসবের শিরোনাম “সুফিয়া কামাল স্মারক নজরুল উৎসব”।

কাজী নজরুল ইসলাম ও সুফিয়া কামালের জন্মদিন উদযাপন করার জন্যই আমরা এই উৎসবের আয়োজন করছি। নজরুলের জন্মদিন ছিল ১১ জ্যৈষ্ঠ আর সুফিয়া কামালের জন্মদিন ২০ জুন। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এক দিন আগেই সুফিয়া কামালের জন্মদিন উদযাপন করব।

সো, বাদবাকি দিনগুলিতে নজরুল ভাইয়াকে সুফিয়া কামালের স্নেহ সহকারেই টিকিয়া রহিতে হবে মনে হয়। তাতেও যদি তিনি রবীন্দ্রনাথের সমান হন তাই হবে আমাদের বড় প্রাপ্তি। আমরা তাতে আরো বেশি করে বাঙালী হয়ে উঠব!

৩.

প্রশ্ন উঠতে পারে, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনখানি ছায়ানট কার লগে মিলাইয়া পালন করছে? তা আমি জানি না, নিশ্চয়ই ওয়াহিদুল হকের জন্মদিনে নয়। তবে আগামী বছর “নজরুল ইসলাম স্মারক রবীন্দ্র উৎসব” পালন কইরা দেখাইতে পারে ছায়ানট; নিদেন “সুফিয়া কামাল স্মারক রবীন্দ্র উৎসব”।

তারা তা না করলে আমি নজরুল ইন্সটিটিউটরে বুদ্ধি দিতে চাই “বঙ্গবন্ধু স্মারক রবীন্দ্র উৎসব” শুরু করনের। একবার এই চিন্তা রাষ্ট্র হইলে ছায়ানটের সাধ্য কী তা ঠেকায়।

মহৎপ্রাণদের জন্মদিনের এই লাগামছাড়া মেশামেশিরে স্রেফ সুফিয়া কামালে সীমিত রাখলে চলবে কেন!

৯/৮/২০১০

Flag Counter