নেতাদের লইয়া ঠাট্টা-মশকরা

আপনি সরকারী দলের নেতাদের লইয়া ঠাট্টা-মশকরা করতে পারবেন না। আবার বিরোধী দলের নেতাদের লইয়াও তা করতে পারবেন না। কী রকম হাড্ডি কঠিন অবস্থা এই দেশে, তাই না?

এই যে নেতামণ্ডলীগো লইয়া কিছু বলতে পারবেন না, ভয়ের সংস্কৃতি লালন, পালন ও প্রচার করবেন এর অর্থ হইল আপনি আসলে পাবলিক হিসাবে সত্যিকারের বা ট্রু বিরোধী দল সাব্যস্ত হইয়া আছেন।

দেশে আপনি ওয়ান অ্যান্ড অনলি বিরোধী দল, চিরকালীন বিরোধী পার্টি, ইউ জনগণ!

আর ওনারা যারা সরকারী দল ও বিরোধী দল আছেন উভয়েই সরকার হইয়া আসমানে বইসা আছেন, পিপলের তুলনায়। কারো পশ্চাৎদেশে সংসদ ভবনের চেয়ারগুলি আটকাইয়া আছে, কারো থিকা তা ছুইটা গেছে মাত্র।

মি. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির ক্যাডার না। উনি বিএনপির মালিকদেরকে ঠাট্টা মশকরা উপদেশ প্রস্তাব দিতে পারবেন কি পারবেন না তা বিএনপি দলটি বা তার নেতারা ঠিক করবেন না।

জাফর সাব সরকার বিরোধিতা ঠিকমতো করতেছেন কিনা সেই জায়গা থিকাও তার বিরোধী দল নিয়া মশকরার বিচার হবে না।

বিরোধী দলের নেতার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব বা সরকারী দলের নেতার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব এই রকম কোনো দায়িত্বই তার নাই। তিনি বয়স্ক হইলে বা সম্মানিত নাগরিক হইলে পরেও এই রকম কোনো দায়িত্ব তার স্কন্ধে পড়ে না।

মনে রাখবেন, দেশের আপামর জনসাধারণের সম্মান আর নেতাদের সম্মান একই সমান। কাজেই সকলের বেলায় যা চলবে নেতাদের বেলায়ও তা চলবে। অন্তত গণতন্ত্রের ফর্দ অনুযায়ী।

যদি তা চলতে না দেন তাইলে আপনি সরকার হিসাবে যেই রকম পাবলিক বিরোধী, বিরোধী দল হিসাবেও পাবলিক বিরোধীই।

তো জাফরুল্লাহ চৌধুরীরে নিয়া বুদ্ধিজীবীদের হিসাব-কিতাব সব তারা দেখলাম করতেছে জাফরুল্লাহরে সরকার নামানোর একটি ছুটা যন্ত্র ধইরা লইয়া।

তা কেন, তারে আমাদের মতোই স্রেফ রাজনীতি সচেতন ফকিন্নি পাবলিক ধইরা নিয়া গইনা দেখেন, তিনি কী করতে পারেন বা পারেন না।

দেখবেন, তিনি সরকাররেও পড়ালেখা করতে যেমন বলতে পারেন, বিরোধী দলের নেতারেও তেমনই বলতে পারেন।

আবার জাফর সাবরে নিয়াও সমান ভাবে মশকরা চলতে পারে।

নানান দমন পীড়নের কারণে সরকার প্রধানরে নিয়া মশকরা সম্ভব হচ্ছে না তাই যেইখানে সম্ভব হচ্ছে সেই বিরোধী দলের নেতারে নিয়াও মশকরা করা যাবে না, এইটা সেন্সরশিপ।

বুদ্ধিজীবীরা কেন এই সেন্সর বসাইবেন জাফরউল্লাহ সাবের জিব্বায়? আমি বুঝি না!

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তো জিব্বার উপরে সেন্সর না বসানোতেই। তাই না?


Leave a Reply