মানুষ যে পশু হত্যা করে এইটাই আর সব প্রাণির সঙ্গে মানুষকে এক কাতারে রাখে।

মানুষ পশুহত্যার কারণেই জীব তথা মানুষ থাকে। যারা পশুহত্যা বিরোধী তারা বৃহৎ অর্থে খাদ্যচক্র নাশের পক্ষে, তাই তারা জীবচক্রবিরোধী, অর্থাৎ শয়তান।

ধরেন আপনি বাঘের হরিণ খাওয়ার সমালোচনা শুরু করলেন। তেমনই এরা প্রাণিহত্যার সমালোচনা করেন।

আমার পরিচিত শিক্ষিত ও আর্ট সম্প্রদায়ের অনেকেই কোরবানির বিরুদ্ধে বলেন। কোরবানিকে তারা সত্যি সত্যিই নিতে পারেন না।

এইটা প্রথমত রুচির প্রশ্ন, দ্বিতীয়ত কাকে কেউ ভায়োলেন্স ভাবছেন তার প্রশ্ন।

তো যারা কোরবানির বিরুদ্ধ পক্ষ তারা কোনটা ভায়োলেন্স সে বিষয়ে সমাজে একটা অভিন্ন মত প্রতিষ্ঠা করতে চান।

এগুলি তারা অবশ্যই করতে পারেন। যারা কোরবানি পক্ষ তারা এইসব না শুনলেই হয়। কোরবানির বিরোধিতা যদি মানুষের টিকা থাকার বিরুদ্ধে যায় তাদের কথা কেউ শুনবে না নিশ্চয়ই।

কিন্তু দেখা যায়, এই বিরোধিতাটা কোরবানি বিরোধীদেরকে মানুষ হিসাবেও তুলনায় শ্রেষ্ঠ বা কালচার্ড দেখাইতে সাহায্য করে।

আমার কোশ্চেন সেই জায়গায়।

কেন কোরবানি বিরোধিতা বা পশুহত্যা বিরোধিতা সমাজে অধিক সহানুভূতিশীলতা ও সংস্কৃতি হিসাবে গণ্য?

মানুষের মানুষ থাকাই যদি যথেষ্ট দেখানো যায় তবে তাদের এই বিরোধিতা আর কার্যকর থাকে না।

কিন্তু সে বিষয়ে আমাদের অস্পষ্ট অবস্থানের কারণ কী?

২.
কোরবানি প্রসঙ্গে পরিচ্ছন্নতার যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, এইটা দিয়াই কোরবানি বিরোধিতার শুরু হয়।

এই অভিযোগ মানার মধ্য দিয়া কোরবানি পক্ষ কোরবানি বিরোধীদের আপত্তিসমূহ গ্রাহ্য করতে শুরু করে।

যত্রতত্র কোরবানি দেওয়ার মাধ্যমে নগর অপরিচ্ছন্ন করার যে যুক্তিহীন নালিশ সে নালিশকে গ্রাহ্য করে। ও কোরবানি যেন একটি গোপন ব্যাপার এমন ভাবে কোরবানি দেয় তারা।

এই নালিশ যখন আপনি মাইনা নেন তখন মানুষ হিসাবে যারা নগর অপরিচ্ছন্ন করে না তাদের চাইতে আপনি হীন অবস্থান গ্রহণে স্বেচ্ছায় রাজি হইয়া যান।

কিন্তু রক্তের বা কোরবানির প্রয়োজন আপনি রক্তপাতহীনতা তথা পরিচ্ছন্নতা দিয়া সারতে পারবেন না। যখন উৎসবই রক্তের তখন পরিচ্ছন্নতা আপত্তি বা প্রশ্ন আকারে আসতে পারে না। রক্তের প্রবাহ ও পরিচ্ছন্নতা পরস্পর বিপরীত বিষয়।

৩.
কাজেই কোরবানিকে সার্বিক ভাবে সমর্থন করতে না পারলে সমাজে কোরবানির বিরোধী পক্ষের লোকেরা বেটার মানুষ হিসাবে মান্য থাকবে।

আমাদের যে পশুভক্ষণ করতেই হবে তাকে গ্লোরিফাই করে কোরবানি।

কোরবানির মাধ্যমে প্রতিদিনকার পশুহত্যাজনিত যে গণ অপরাধবোধ ও দ্বিচারিতা তার থেকে আমরা মুক্তি লাভ করি।

সে অর্থে কোরবানির গুরুত্ব অপরিসীম।

অন্য সব সাইকোলজিক্যাল ও আধ্যাত্মিক সমাধানগুলি যদি এইবেলা আমরা বাদও দেই।

৩১/৭/২০২০