বুদ্ধিজীবী হিসাবে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর তিনটি সমস্যা

“তিনি যদি সুবিধাবাদী হন এবং সক্রিয় না হন তাহলে আমি তাকে বুদ্ধিজীবী বলব না৷ বুদ্ধিজীবীকে সক্রিয় হতে হবে৷ তিনি সুবিধার জন্য কাজ করবেন না৷”

—সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
৯/৭/২০২১, ডি ডাব্লিউ

😌

তিনটা জায়গায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আমি প্রবলেমেটিক মনে করি।

১.
বুদ্ধিজীবী হিসাবে তিনি পদমর্যাদা ভক্ষণ করেন বা বিশিষ্ট হওয়াটা উপভোগ করেন।

অর্থাৎ হায়ারার্কি মেইনটেন করেন। তিনি বুদ্ধিজীবীদের হেডমাষ্টার হইতে চান। কিন্তু শিক্ষকতা বুদ্ধিজীবিতা নয়।

২.
সিরাজ সাহেব আদর্শবাদী, তিনি মনে করেন সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবী হইতে পারে না।

কিন্তু বাস্তব হইল যেকোনো বুদ্ধিজীবী যেকোনো সময় সুবিধা গ্রহণ করতে পারে, তাতে সে বুদ্ধিজীবী অবস্থান থেকে খারিজ হইয়া যায় না।

বিষয়টা বুদ্ধি ও কৌশল দিয়া রাজনীতি ও সমাজ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন।

“বুদ্ধিজীবী মানেই ভালোর পক্ষে” এই রকম চিন্তা আদর্শবাদী চিন্তা। তাতে যা কিছু ভালো হিসাবে গৃহীত তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবীর কোনো অবস্থান থাকে না।

এরশাদের আমলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুবিধা উপভোগ করতেন বুদ্ধিজীবী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তাতে কি তিনি বুদ্ধিজীবী ছিলেন না তখন?

৩.
ভাষা ও কালচারের শুদ্ধতায় অর্থাৎ মিডল ক্লাসের উচ্চম্মন্যতায় তিনি বিশ্বাস করেন।

বাংলা মিশ্রিত ইংরাজি অর্থাৎ বাংরেজি বা ইংলা নিয়া তার অবস্থান সমস্যাজনক।

সাংস্কৃতিক শুদ্ধতাবাদী এই বুদ্ধিজীবী ২০০১ সালে একটা রাজনৈতিক দলের আহ্বানে সাড়া দিয়া বাংলা সিনেমার অশ্লীলতা ঠেকানোর মতো ফ্যাসিস্ট ইভেন্টে অংশ নিছিলেন।

তিনি নায়িকাদের খোলা পেটের ছবিতে আলকাতরা দিয়া ঢাইকা দেওয়ার মতো শুদ্ধতাবাদী অ্যাকটিভিজম করেন ওই সময়।

২০০১-এর ওই ঘটনার পর পর বুদ্ধিজীবী মানস চৌধুরী এর বিরোধিতা কইরা একটা লেখা লিখছিলেন।

এই রকম কিছু সমস্যার বাইরে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবী মনে করি আমি।

লিংক
১. সাক্ষাৎকার: সুবিধাবাদী হলে তিনি আর বুদ্ধিজীবী থাকেন না: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
২. চলচ্চিত্রে ‘অশ্লীলতা’ প্রসঙ্গ এবং শ্যামলালের গল্প / মানস চৌধুরী 

Leave a Reply