মিথ্যুক পারভেজ আলমের পিছনে কিছু সময় নষ্ট

পারভেজ আলমরে আমি দেখতে পারি না। শিক্ষিত হওয়ার চেষ্টায় অস্থির হইয় থাকেন এই প্রবাসী লেখক। এই রকম আরো কয়েক জন আছেন। তাদের নিয়া পরে বলবো।

এক.
তো পারভেজ আলম তার ফেসবুক ওয়ালে আমারে নিয়া একটা লেখা লিখছেন। তা এই রকম:

“কারো লেখা না পইড়াই বা কাজ সম্বন্ধে কিছু না জাইনাই কীভাবে তার ব্যাপারে এক গাদা জাজমেন্ট উগরে দেয়া যায়, তা শেখার জন্যে ব্রাত্য রাইসুর লেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখবেন যে এইগুলা রাইসুর “কুতর্ক”। সেইটা সে সবাইরে জানাইয়াই করে। এখন এইসব অর্থহীন কুতর্করে পাতে তুলবেন কী তুলবেন না, সেইটা অবশ্য আপনার সিদ্ধান্ত।” / পারভেজ আলম, জুন ২৫, ২০২১

তার পোস্টে আরো অনেক কমেন্টের সঙ্গে তানিশা রহমান (Tanisha Rahman) নামের একজন কমেন্ট করছেন। তানিশা পারভেজকে জিজ্ঞেস করছেন:

“ব্রাত্য রাইসু যে না পড়েই ওই ব্যাক্তির উপর জাজমেন্ট করে, এই তত্ত্ব আপনি কিভাবে জানলেন সেটা কি বলা যায়?” (লিংক)

শিক্ষিত পারভেজ আলম উত্তরে লিখলেন:

“Tanisha Rahman ধরেন আমি আপনাকে অনেকদিন ধরে চিনি। এখন আপনার ব্যাপারে কেউ এক গাদা আন্দাজি কথা বললেতো আমি বুঝবো যে আপনি ঠিক মতো না চিনে একজন মানুষের ব্যাপারে রটনা করতাছেন। ব্রাত্য রাইসুর একটা লেখা দেখলাম চমস্কিরে নিয়া, একগাদা মিথ্যা অভিযোগ তাতে। বোঝাই যায় যে কুতর্ক করতে হবে, সুতরাং নিজের মনের মাধুরি মিশায়া কিছু অনুমান হাজির করেছে।” (লিংক)

এই পর্যন্তই পারভেজ আলমের পোস্ট লইয়া আমার আগ্রহ। যেহেতু আমার বিষয়ে লেখছেন তাই আমার কিছু বলবার বিষয় তৈরি হইছে। সেইটা এইখানে বলি। বইলা পারভেজ আলমের ফেসবুকে শেয়ার কইরা দিব।

আমি আমার স্বভাব সুলভ জায়গা থিকা, অর্থাৎ আমার প্যাচমারা স্বভাব থিকা, পারভেজ আলমরে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম এইখানে।

এই লেখা শুরু করার আগে অবশ্য আমি ওনার পোস্টে আমার যেইসব ফেসবুক ফ্রেন্ডরা লাইক দিছে অগোরে আনফ্রেন্ড করছি। আরেকটায়, শেয়ার করছিল পারভেজের পোস্ট, অরে ব্লক করছি।

আমি আমার রাজনীতির ক্ষেত্র অর্থাৎ ফেসবুকে শত্রু-মিত্র পরিষ্কার রাখতে চাই। সে কারণে এই আনফ্রেন্ড ও ব্লক। ভিন্নমতের প্রতি আমার নিজস্ব ঘরানার ভিন্নমত প্রয়োগ।

তো আনফ্রেন্ড ও ব্লকের পরে আমার উত্তর লিখতে বসছি। দেখবেন উত্তরে একটা দার্শনিক অবস্থান নিয়া আসতে চেষ্টা করছি যে কেন মিথ্যার প্রমাণ ছাড়া কাউরে মিথ্যুক বলাটা আরেক মিথ্যাচার।

দুই.
মি. পারভেজের উত্তর দেখেন, উনি আমারে চিনা ও বোঝা থেকে জানছেন। কিন্তু কী কী “একগাদা মিথ্যা অভিযোগ” তা বলেন নাই।

অন্যের “মিথ্যা অভিযোগ” সম্পর্কে আপনার সত্য অভিযোগ জানাইতে গেলে কী কী মিথ্যা অভিযোগ তা আগে বইলা নিতে হবে। নয়তো তা হবে নিজেই মিথ্যা অভিযোগ।

তবে আমি অবশ্যই চমস্কি না পইড়াই আমার বক্তব্য দিছি। আমি যা বলছি তার ক্ষেত্রে চমস্কি পড়ার প্রয়োজন নাই। ধরেন আমি পারভেজের লেখা পড়ি না, এই কথা বলতে গেলে কী কারণে আমায় পারভেজের লেখা পইড়া নিতে হবে!

বা ধরেন আমি ধারণা করি চমস্কি আমার চাইতে কম বোঝেন, ফলে চমস্কি সাহেবের বেশি জানাটা আমার বেশি বোঝারে বুঝতে পারবে না ধইরা নিতে হবে। তখনও আমার তারে পড়ার দরকার নাই।

কখন দরকার আছে পড়ার, যখন চমস্কির কোনো লেখার বিরুদ্ধেই আমি বলতে চাই। আমি তো চমস্কির কোনো লেখা পড়িই না, তাইলে আমি কীভাবে তার লেখার বিরুদ্ধে বলবো।

তবে কি আকাট শিক্ষিত পারভেজের দাবি, লেখা নিয়াই লিখতে হবে?

তবে আমি মনে করি, পারভেজ আলম একজন ধীমান অধ্যবসায়ী গবেষক প্রবৃত্তির পড়া-বুদ্ধিজীবী। এই রকম আরো আছে। সলিমুল্লাহ খান বাংলায় পড়া-বুদ্ধিজীবীর উচ্চতম মিনার। হইতে পারে সলিমুল্লাহ সাহেবের দ্বারাই পারভেজ আলম বিপথগামি হইছেন। কত অপচয়!

পড়া-বুদ্ধিজীবী হইবেন তাতে সমস্যা নাই। কিন্তু সবাইরে আপনার ক্লোন বানাইতে হবে কেন?

কারো বই না পইড়া তার সম্বন্ধে কথা বলা যাবে না, অভিযোগ করা যাবে না এইটা হীরক-রাজা মার্কা চিন্তা।

যিনি যুক্তি মানবেন না, সত্য বলবেন না, অথরিটিরে গণ্য করবেন না তিনি কেন এইগুলি করতেছেন না সেই ধরনের অভিযোগই করতেছেন পারভেজ আলম।

আমার ওনারে অনেকদিন ধরে চেনার পর উপলব্ধি হইল, প্রবাসী এই ভদ্রলোক বুক রিভিউ লিখলে ভালো করবেন। তবে নিজের লেখাও লিখতে হবে। মানে যেসব বুক রিভিউ উনি নিজের মতো কইরা লিখবেন সেইগুলা। একই কথা খাটে বইভক্ত সলিমুল্লাহ খানের প্রসঙ্গেও। এমন ভাবে বুক রিভিউ আপনারা দুইজন লিখবেন যেন তা আপনাদের নিজেদেরই লেখা। যদি মূল বইয়ের উল্লেখ করতে হয় তা করবেন এমন ভাবে, যেন সেই বইও আপনার বুক রিভিউ দেইখা লেখা।

আমি বইচাকরদের উন্মাদনারে বিদ্রূপ কইরা বোঝাইতে চাইতেছি, বই ও জানা থেকেই যে লিখতে হবে, এইটা একটা ফ্যাসিবাদী আবদার।

কে কীভাবে অভিযোগ করবে, লিখবে তার তার ব্যাপার। আপনার সে অভিযোগের ব্যাপারে অবস্থান আছে কিনা সেইটাই ব্যাপার।

কারো ব্যাপারে মিথ্যা অভিযোগ করা হইল কিনা সেই মিথ্যাকে প্রমাণ করার দায়িত্ব যিনি মিথ্যা আবিষ্কার করতেছেন তার উপর।

তা না কইরা মিথ্যার অভিযোগ অন্য এক মিথ্যার শামিল। যা করতেছেন পারভেজ আলম দ্য মিথ্যুক।

কেন সম্মানিত শিক্ষিত লেখক ভদ্রলোকরে মিথ্যুক বললাম আমি?

কারণ মিথ্যুক পারভেজ আলম মিথ্যার প্রমাণ না দিয়া আমার সম্পর্কে অভিযোগ করছেন যে আমি মিথ্যাচার করছি। এইটা তার মিথ্যা আচরণ। মিথ্যা আচরণকারীকে মিথ্যুক বলা যাইতে পারে।

প্রমান দাখিল না করার কারণে, পারভেজ সাহেব বাই ডিফল্ট মিথ্যুকে পরিণত হইছেন।

পরে চমস্কি প্রসঙ্গে আমার মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ দাখিল করতে পারলেও তার এক্ষণের বর্তমান মিথ্যা আচরণ তাতে অদৃশ্য হইয়া যাবে না।

আমেরিকার বুদ্ধিজীবী ধন নোয়াম চমস্কি প্রসঙ্গে যদি আমার মিথ্যা অভিযোগ থাকে, তা ধরাইয়া দিয়া আমারে ও আমার দ্বারা বিপথগামিদিগেরে সঠিক অভিযোগের দিশা দিতে পারবেন পারভেজ আলম, কিন্তু মিথ্যুক পারভেজ তারপরও মিথ্যুকই থাইকা যাবেন আমর কাছে।

কারণ তিনি প্রমাণ ও উদাহরণ ছাড়াই আমারে মিথ্যাবাদী বলতে চাইছেন।

আমি চাই আমারে অবশ্যই তিনি মিথ্যাবাদী বলেন ও প্রমাণ করেন, কিন্তু তা উদাহরণ সহযোগে।

আপনারা কি বুঝতে পারলেন আমি কী বলতে চাইছি?

 ঢাকা, ২৬/৬/২০২১


Leave a Reply