নজরুল যেখানে সাম্প্রদায়িক

১.
“নজরুল অসাম্প্রদায়িক ছিলেন”—এই বক্তব্যে নিহিত আছে নজরুল মুসলমানের পাশাপাশি হিন্দুর কালচারও চর্চা কইরা গেছেন!

কিন্তু যদি সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক হইতে হয় তবে কেবল মুসলমানের বা কেবল হিন্দুর সংস্কৃতি চর্চাকেই অসাম্প্রদায়িক হইতে হবে।

দুইয়ের মিশ্রণকে যারা অসাম্প্রদায়িকতা ঠাওরান তারা চম্পু সাম্প্রদায়িক।

আকবরের দ্বীন ই ইলাহি টাইপের নানা সম্প্রদায়ের মিশ্রণ কোনো অসাম্প্রদায়িকতা নয়। ওইটা রাষ্ট্রের কাজে লাগে এমন এক প্রকার সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির উদ্ভাবন যা মূল সংস্কৃতিগুলির প্রতি অবজ্ঞা ছাড়া গইড়া উঠতে পারে না।

নজরুল এই স্থলে সাম্প্রদায়িক। সম্রাট আকবরও।

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)

২.
ভারতের রাজনৈতিক আবহাওয়ায় নজরুল যে শ্যামা সঙ্গীত লিখছেন এইটা অসাম্প্রদায়িকতা না—সাম্প্রদায়িকতার নিম্নচাপ।

সে অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ইসলামি সঙ্গীত লিখলেও তা সাম্প্রদায়িক আচরণই হইত।

“আমি সাম্প্রদায়িক না”—এমন অসাম্প্রদায়িকতার প্রচারকে সাম্প্রদায়িক আচরণই বলতে হবে।

অর্থাৎ যখন আপনার অসাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ হিসাবে ভিন্ন সম্প্রদায়ের গুণ আপনি গাইতে বাধ্য, তাকে আমি সাম্প্রদায়িক আচরণই বলব।

কেবল ইসলামি গান গাইলে পরে নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক বিবেচিত হইতেন না সেই দশা কাটানোরে আমি ‘অসাম্প্রদায়িকতায় উন্নীত হওয়া’ বলব না।

আপনারা আরো কিছুদিন বলবেন। তা বলেন।

৩.
নজরুল মুসলমানদের জন্যে ইসলামি গান লিখছিলেন। মিডিয়ায় প্রচারিত ইসলামি গানগুলিতে সেক্যুলার সুর ও স্বরক্ষেপণের প্রবণতা দেখা যায়।

এই গানগুলি গণতান্ত্রিক সরকারগুলির ইসলামি দায় সারার কাজে বহুদিন যাবৎই ব্যবহৃত হইতেছে।

১৮ শতকে বিকশিত হওয়া শ্যামাসঙ্গীতের ধারাটি অনুসরণ কইরা যে শ্যামাসঙ্গীত তিনি লিখছিলেন তা নজরুল মুসলমানের জন্যে লেখেন নাই। সেক্যুলারদের জন্যেও নয়।

হিন্দুর জন্যেই এই গান তিনি লেখেন। মুসলমানের অনুষ্ঠানাদিতে শ্যামাসঙ্গীত গাওয়ার রীতি নাই।

১-৬/৬/২০১৬


Leave a Reply