এলিটের বুদ্ধিজীবী

আগে মিডল ক্লাস ছিলেন এখন বিদেশে গিয়া এলিট হইছেন এই রকম কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন আমাদের।

তাদের নাম নিয়া ছোট কামে সময় নষ্ট করতে চাই না এখন। যেহেতু অন্য ছোট কাম আছে আমার বুদ্ধিজীবিতার এজেন্ডায়।

আর দেশেও আছেন কিছু এলিট হইতে চাওয়া বুদ্ধিজীবী।

লক্ষণটা দেখতে পারেন এলিট বুদ্ধিজীবিতার। তা হইল, বিলাত ও আমেরিকার এলিট ইউনিভার্সিটিগুলিতে সোসাইটি, দারিদ্র্য, উন্নয়ন, পরিবেশ ও এই ধরনের কিছু বিষয়ে এলিট কিছু টার্ম ইউজ করা হয়| সেই টার্মগুলি যারা এই দেশে লইয়া আসেন ও ইউজ করেন ওনাদের এলিট বুদ্ধিজীবী বলতে পারেন।

এরা মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বই, নাম ও টার্ম যোগে বুদ্ধিজীবিতার এলিটত্ব প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর। তবে যতটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ততটা মিডিয়ায় না। কারণ টার্মের ভোক্তা নাই মিডিয়ায়।

বিদেশী লেখক ও বইয়ের নাম যারা প্রতি লেখা বা বক্তব্যে ডিম ফুঁটানোর মত কইরা বহু যত্নে ফুটাইয়া তোলেন, তাদেরকেও (সেমি) এলিট বুদ্ধিজীবী বলা যায়।

তবে এলিট মানে আগিলা বড়লোক বা বনেদি ফ্যামিলি থিকা আসা এলিট পরিবারের সন্তান কেউ বুদ্ধিজীবী আছে কি? যদি জানতে চান, আমি বলবো থাকতে পারে, তবে তারা যে বুদ্ধিজীবী হিসাবে এলিট হইবেন এমন নাও হইতে পারে। মানে আমি দেখি নাই এখনও।

যেমন বদরুদ্দীন উমর, উনি বনেদি পরিবারের সন্তান এই রকম শোনা যায়, কিন্তু জীবনযাপন ও বুদ্ধিজীবিতার চর্চায় মিডল ক্লাস। এইটা সম্ভবত তার চয়েস।

আবার দেখেন, এই সময়ের তরুণ লেখক, আর্ট কিউরেটর বা তত্ত্বাবধায়ক ও বুদ্ধিজীবী আছেন এবাদুর রহমান। তিনি এলিট সোসাইটির সদস্য হিসাবে নিজেরে দেখাইতে প্রাণপন মিডল ক্লাস সুলভ চেষ্টা কইরা যাইতেছেন। কিন্তু ঘুইরাফিরা যেহেতু মিডল ক্লাসেই চক্কর খাইতেছেন উনি, ওনারেও এলিট বুদ্ধিজীবী ধরা যাইতেছে না।

শহিদুল ও রেহনুমাও একই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ওনাদের সবেধন এলিটত্ব বিদেশি আর্টিস্ট ও ফটোগ্রাফারদের দৃক ও ছবিমেলায় আগমন ও তাদের সঙ্গে ফ্লুয়েন্টলি ইংরাজিতে কথা বলতে পারা ও একসঙ্গে খাদ্যগ্রহণের সাবলীলতা। ওনাদের আরেক এলিটত্ব কোনো একটা বিষয়রে প্রথমে এইদেশে লইয়া আসা।

এই রকম আরো এলিট আছে। কিন্তু তারা কেউই বুদ্ধিজীবিতার বিষয় হিসাবে এলিট ক্লাসের বা উচ্চ বড়লোকদের জীবনযাপন ও সামাজিক ইস্যুগুলি আইডেনটিফাই ও সমাধানের কাজ কিছুই করেন না।

এইসব এলিটম্মন্য বুদ্ধিজীবীরা মূলত মিডল ক্লাস গ্রাহক লইয়াই পইড়া রইছেন।

যেহেতু এলিটের নিজের সমস্যা এক্সপ্রেস করার যোগ্য মাধ্যম ও ক্ষেত্র নাই, যেমন নাই ছোটলোকদেরও, তাই সম্ভবত এরা সকলেই মিডল ক্লাসের দরবারকেই কমন ক্ষেত্র বিবেচনা করেন।

এলিট এবং ‘হয়তো এলিট’-এর বুদ্ধিজীবিতা, ক্রিয়েটিভিটি ও অ্যাকটিভিজম চর্চার এবং অবশ্যই এলিটিপনা প্রদর্শন করার কমন ক্ষেত্র মিডল ক্লাস জনমণ্ডলী ও পাবলিক মিডিয়া।

দুঃখের বিষয়, মিডল ক্লাস বর্ণবাদীগুলা এলিট পরিবারের মিডল ক্লাস বুদ্ধিজীবিতা লইয়া যত গদ গদ ততটাই নিরব থাকে ছোটলোক বা গ্রাম পরিমণ্ডল থিকা আসা মিডল ক্লাস বুদ্ধিজীবিতার ব্যাপারে।

শাহ আবদুল করিম, আবদুল কুদ্দুস বয়াতী ও হিরো আলম দ্রষ্টব্য।

১৭/৭/২০২১


Leave a Reply