মেটাভার্স, যন্ত্র বিক্রির পায়তারা

ফেসবুক কোম্পানির নাম হইছে ‘মেটা’ (Meta)। আগে ফেসবুক অ্যাপ এবং কোম্পানি একাকার আছিল। এখন মেটা কোম্পানির অ্যাপ হইছে ফেসবুক অ্যাপ, এইভাবে হিসাব করতে হবে।

অর্থাৎ যেই ফেসবুক ছিল তা সেই ফেসবুকই থাকবে। তবে মেটা কোম্পানির নতুন যে অ্যাপ আসতে যাইতেছে তার সঙ্গে ফেসবুক অ্যাপের ডাইরেক্ট কানেকশন থাকবে।

ফেসবুক থিকা পলকে মেটাভার্সের ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি জগতে ঢুইকা যাইতে পারবেন আপনি। আমিও পারমু। এইটা আমার আন্দাজ। মোটা গলায় এখনও মেটা কর্তৃপক্ষ মেটাভার্স অ্যাপ আনতেছেই এমন বলতে শুরু করে নাই।

ভাবেচক্করে মনে হইতেছে নতুন যে অ্যাপ তারা আনবে, সেইটার নাম হবে মেটাভার্স। ইউনিভার্সের বিপরীতে মেটাভার্স! যেখানে ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি স্পেসে অর্থাৎ ভার্চুয়াল জগতে আপনার অ্যাভাটারের মাধ্যমে আপনি অ্যাকটিভ থাকবেন। অভিসার করতে থাকবেন আপনি।

বাস্তবে যা করতে পারেন না আপনি সেই কাম অর্থাৎ ভার্চুয়াল নারী ও পুরুষগো লগে ঘুরাঘুরি করতে পারবেন। বা হইতে পারে তারা আপনার আমার মতো অন্য ইউজারগো অ্যাভাটারই। অন্য মাইনষের অ্যাভাটারগো লগে তাদের সম্মতিক্রমে শুইতে বা করতে পারবেন কিনা বলা যাইতেছে না। অ্যাডাল্ট মেটাভার্স শুরু না করার কারণ দেখি না। তখন শুইতে গেলে বা চুমা খাইতে গেলে টাকা চাইতে পারে মেটা কোম্পানি।

মেটাভার্স, অনেকটা অ্যাভাটার সিনেমা দিয়া উদ্বুদ্ধ কোম্পানি আর কি! ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR), অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR), স্মার্ট গ্লাস ও অকুলাস-এর সমন্বয়ে ও সহযোগিতায় ঘটবে এই অভিজ্ঞতা।

অর্থাৎ আদি ফেসবুক কোম্পানি মেটাভার্স নাম দিয়া আপনার আমার দরবারে যন্ত্র বিক্রি করতে যাইতেছে। আমরা তা কিনবোও বটে।

মেটাভার্স বিহার করতে অভ্যাস হইলে পরে আমরা তখন ফেসবুকের লাইক, কমেন্ট, শেয়ারে অত আগ্রহী থাকবো কি?

মনে হয় না। মেটাভার্স ব্যক্তিকে আর অন্য ব্যক্তির সম্মতি-অসম্মতিতে তাল মিলানোর জন্য ফেসবুক স্ক্রলিং করাইতে সেইভাবে হয়তো চাইবেও না। ফেসবুক হইয়া দাঁড়াইবে মেটা কোম্পানির অন্য অ্যাপগুলির জংশন। এইখান থিকা নানা অ্যাপে ভ্রমণ করবেন আপনি। তাতে ফেসবুকে যত কম আপনি থাকবেন মেটা কোম্পানির ততই লাভ!

বেচারা ফেসবুক অ্যাপ (২০০৪) কেমন এক লহমায় ইউজারদের কম গুরুত্বের বয়স্ক উপপত্নীতে পর্যবসিত হইয়া গেল, আহা!

২৯/১০/২০২১

Leave a Reply